সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

সৈকতের ঢেউয়ে থেমে গেল ঘোরাঘুরির স্বপ্ন:সায়মনে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২৫-০৬-০৯ ২০:২২:১৮
ছবি সংগৃহিত

ঘুরতে এসেছিলেন জীবনের ক্লান্তি কাটাতে। অথচ কক্সবাজারের নীল জলে নেমে ফিরে গেলেন নিথর হয়ে। রাজশাহী থেকে ঘুরতে এসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সায়মন বীচ পয়েন্টে একসাথে গোসলে নেমে ঢেউয়ের সাথে হারিয়ে গেলেন বাবা ও ছেলে। জীবনের স্বপ্নময় ছুটির দিনটা পরিণত হলো এক শোকাবহ অধ্যায়ে।
আজ সোমবার (৯ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইলিয়াস খান নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন শাহীনুর রহমান (৬০) এবং তাঁর ছেলে সিফাত রহমান (২০)-দুজনেই রাজশাহীর বাসিন্দা। তাঁরা একটি পারিবারিক ভ্রমণে কক্সবাজার এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলেন সিসিএফ লাইফগার্ড টিম। টিমের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, “আমরা দেখতে পাই-দুজন লোক পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন। দ্রুত ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা অতিরিক্ত রক্ত বমি করতে শুরু করেন এবং পরিণতিতে মারা যান।”
এই ‘রক্ত বমির’ কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে অনেকেই ধারণা করছেন, হঠাৎ পানিতে ডুবে যাওয়ার ধকল, লবণাক্ত পানি গিলে ফেলা বা আগে থেকে থাকা কোনো শারীরিক জটিলতা এই পরিণতির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবা-ছেলে সৈকতের অন্যান্য অংশ ঘুরে দুপুরে সায়মন বীচ পয়েন্টে যান। সেখানে ঢেউয়ের তালে আনন্দে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে যায়। স্বজনদের আহাজারি, লাইফগার্ডের দৌড়ঝাঁপ আর মানুষের কৌতূহল নিয়ে নেমে আসে এক শোকাবহ পরিবেশ।
দুই মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওসি ইলিয়াস খান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পোস্টমর্টেম করা হবে।”
ঘন ঘন পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় সৈকতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পর্যটকরা। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনগুলো।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, “বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে পর্যটকদের অসাবধানতা,পানির ঢেউয়ের আচরণ না বোঝা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার কারণে।”
রাজশাহীর শাহীনুর রহমান ও তাঁর ছেলে সিফাতের জীবন থেমে গেল একদম আচমকাই। এই ঘটনায় শুধুমাত্র দুটি প্রাণই নিভে যায়নি, বরং থেমে গেছে একটি পরিবারের হাসিমুখের গল্প। কক্সবাজারের নীল সমুদ্র আজ সাক্ষী রইল এক অসমাপ্ত ছুটির দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার।

 


এ জাতীয় আরো খবর