সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ভুয়া ‘মেজরের’ প্রেমের ফাঁদ: চিকিৎসক নারী ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার, ৫০ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক

  • নড়াইল প্রতিনিধি
  • ২০২৫-০৬-০৪ ০২:৫১:৪১
ছবি সংগৃহিত

নড়াইল, ৪ জুন ২০২৫
‘মেজর’ পরিচয়ে প্রেম, তারপর বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক। গোপনে ধারণ করা হয় ভিডিও। এক পর্যায়ে শুরু হয় ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আদায়-শেষ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। অবশেষে আইনের আশ্রয় নিয়ে সাহসী সেই নারী চিকিৎসক জালিয়াত ‘মেজরের’ মুখোশ খুলেছেন।
ধরা পড়া প্রতারকের নাম মোঃ বেনজির হোসেন (৪১)। নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিজের পরিচয় দিতেন ‘মেজর বেনজির’ হিসেবে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয়, এরপর শুরু হয় তার সুপরিকল্পিত প্রতারণার নাটক।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের চেম্বারে আসেন বেনজির। সেনাবাহিনীর ‘মেজর’ পরিচয় দেন, বলেন, “আমি ক্যাডেট কলেজের ছাত্র, এখন মেজর পদে কর্মরত।” এরপর শুরু হয় প্রেমের প্রস্তাব, প্রেমে রাজি হলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি।
এই সুযোগে বেনজির কৌশলে নিয়ে যান আবাসিক হোটেলে-সেখানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। শারীরিক সম্পর্কের সময় তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করেন।
ভিডিও ধারণের পর শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। বেনজির চিকিৎসকের বাসায় যেতেন, জোর করে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
চাকরির প্রলোভনে চিকিৎসকের কাছ থেকে কৌশলে আদায় করেন ৫০ লাখ টাকা। এরপর যখন চিকিৎসক বিয়ের দাবি ও অর্থ ফেরতের চাপ দেন, তখন আসামি হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমার ছেলেকে গুম করে দেবো, ভিডিও ছড়িয়ে দেবো।”
অবশেষে চিকিৎসক নারী থানায় মামলা করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান। যশোর সাইবার ক্রাইম ইউনিট ৩ জুন ভোরে অভিযানে গিয়ে বেনজিরকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ তার কাছ থেকে উদ্ধার করে:
৬টি মোবাইল ফোন
৩টি সিমকার্ড
একটি পাসপোর্ট
৪টি চেক বইয়ের পাতা

গ্রেপ্তারের পর বেনজির অপরাধ স্বীকার করে জানায়, এভাবে পরিচয় গোপন করে নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে, অর্থ আদায় করে ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
তদন্তে জানা গেছে, বেনজিরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক থানায় পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এই ঘটনাটি শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রতারণার মামলা নয়, বরং সমাজে নারীর নিরাপত্তা, বিশ্বাসভঙ্গ, ও সাইবার অপরাধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। চিকিৎসকের সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে, প্রতারক যতই কৌশলী হোক, আইনের কাছে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এরকম প্রতারকদের চিহ্নিত করতে তারা আরও নজরদারি বাড়াবে। নারীদের প্রতিও পরামর্শ-চাকরি, বিয়ে বা প্রেমের প্রলোভনে ব্যক্তিগত তথ্য বা সম্পর্ক যেন না গড়ে ওঠে অপরিচিতদের সঙ্গে, বিশেষ করে যারা পরিচয় যাচাই করতে দেয় না।

 


এ জাতীয় আরো খবর