বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই দেশ চলা উচিত-ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চান সেনাপ্রধান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২২ ০০:১০:১৫
ছবি সংগৃহিত

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার ভাষায়, দেশের ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ নির্ধারণের দায়িত্ব কেবল একটি “নির্বাচিত সরকারের” হাতেই থাকা উচিত।
বুধবার (২১ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত একটি অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা সরাসরি ও ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, “আমি চাই ১ জানুয়ারি ২০২৬ সাল থেকে একটি নতুন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশ পরিচালনা করুক।”
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এমন একটি সরকারই কেবল দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পূর্ণ রাজনৈতিক বৈধতা রাখে।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই জাতির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে জরুরি। নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান ‘পরিষ্কার ও আগের মতোই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান সাফ জানান, “রাখাইন ইস্যুতে মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত একটি বৈধ নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে। এটি কেবল কূটনৈতিক বা মানবিক নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই নেয়া উচিত, যাতে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচন ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয় উঠে আসে বলে উপস্থিত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-আঞ্চলিক করিডর প্রকল্প, সমুদ্রবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, প্রতিরক্ষা খাতের কাঠামোগত সংস্কার, এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামরিক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় করিডর ও বন্দর বিষয়ক আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। সেনাবাহিনীও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়ে সরব ভূমিকা রাখছে।
সেনাপ্রধানের বক্তব্য গণতন্ত্রপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা গেলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি বর্তমান সরকারের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নির্বাচনের বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষ করে রাখাইন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকলেও ‘নির্বাচিত সরকার’কেই সিদ্ধান্তগ্রহণের যোগ্যতা দেওয়া-এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে সুশাসনের পথ প্রসারিত করতে সহায়ক হতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর