যমুনা ফ্যাশন ওয়্যারস্ লিঃ,বানিজ্যিক প্লট: ৭৫, রোড: ৫, সেকশন: ২, ব্লক: ক, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬ এর শ্রমিক কর্মচারী এবং যমুনা ফ্যাশন ওয়্যারস্ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি ঃনং-ঢাকা-৫৪০৯) এর ৭০০ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারীগনের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল:১১:০০ ঘটিকায় শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
শ্রমিক সমাবেশে যমুনা ফ্যাশন ওয়্যারস্ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি ঃনং-ঢাকা-৫৪০৯) এর সভাপতি স্বপ্না আক্তারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস, যমুনা ফ্যাশন ওয়্যারস্ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি ঃনং-ঢাকা-৫৪০৯) এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক, ইউনিয়নের সদস্য সাথী আক্তার, সাজেদা আক্তার প্রমুখ ।
বক্তাগন বলেন কারখানার মালিকপক্ষ গত ২০২১ইং সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে অনিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫ অমান্য করে আসছে। শ্রমিকগন কারখানার কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করেন নাই বরং তাদের বিভিন্নভাবে অধিকার হতে বঞ্চিত করে আসছেন।কারখানার শ্রমিকদের সমস্যা নিরসনে গত ২৭/০৬/২০২৪ইং তারিখ বিজিএমইএ,মালিক ও শ্রমিকদের সাথে সমঝোতা চুক্তি করেন মালিকপক্ষ সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়ন করে নাই। তদুপরি শ্রমিকগন দেশ ও শিল্পের স্বার্থে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রেখে এবং পরবর্তীতে গত ১৯/১১/২০২৪ইং তারিখ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শ্রমিকদের দাবী সংক্রান্ত আরেকটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয় মালিকপক্ষ সেই চুক্তিও বাস্তবায়ন করেন নাই।
বক্তাগন আরও বলেন এপ্রিল ২০২৫ইং মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে। মালিকপক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কারখানায় অনুপস্থিত, বকেয়া বেতন-ভাতার জন্য শ্রমিকগন কর্তৃপক্ষের সাথে বারংবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এতে শ্রমিকগন আশংকাগ্রস্থ’ হয়ে এবং পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য র্যালী তোপখানা রোড প্রদক্ষিন করে সচিবালয়ে গেইটে পুলিশ বাঁধার সম্মুখীন হয়ে নি¤œলিখিত দাবীসমূহ বাস্তবায়নের দাবীতে একটি প্রতিনিধি দল শ্রম মন্ত্রণালয় স্মারলিপি পেশ করেন।
সকল শ্রমিক কর্মচারীদের দাবী সমূহ
০১. এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
০২. ঈদের পূর্বে মে মাসের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে।
০৩. মজুরী প্রদেয়কাল শেষ হওয়ার পরবর্তী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।
০৪. কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ অনুযায়ী বাৎসরিক ছুটির টাকা প্রদান করতে হবে।
০৫. চাকুরী হইতে অব্যাহতি দিলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অব্যহতিজনিত সুবিধা পরিশোধ করতে হবে।
০৬. মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে ৬০ (ষাট দিন) এবং সন্তান প্রসব হওয়ার পর কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরবর্তী ০৩(তিন দিন) মধ্যে অবশিষ্ট ৬০ (ষাট) দিনের সুবিধা পরিশোধ করতে হবে।
০৭. বে-আইনীভাবে কোন শ্রমিককে চাকুরী চ্যুত করা যাবে না।
০৮. কোন শ্রমিককে চাকুরীচ্যুত করলে শ্রম আইন অনুযায়ী সকল পাওনাদী পরিশোধ করতে হবে।
০৯. কোন শ্রমিককে অকর্থ্য ভাষায় গালমন্দ, শ্রমিকের গায়ে হাত তোলা যাবে না।