পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় আ’লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সত্যজিৎকে দিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ মে) সকালে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ থেকে গাজী মিজানুর রহমান মন্টুর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কি:মি: পর্যন্ত রাস্তায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী এ মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে কপোতাক্ষ মার্কেট সম্মুখে চৌরাস্তা মোড়ে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
পাইকগাছা ছাত্রদলের সাবে আহ্বায়ক জিএম মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর এসএম ইমদাদুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ ইমাদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক তহিদুজ্জামান মুকুল, সাংবাদিক আব্দুল গফুর, কাজী সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, পৌর কাউন্সিলর বিএনপি নেতা কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব যজ্ঞেশ্বর সানা কার্তিক, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিএম শুকুরুজ্জামান, ব্যবসায়ী শিবপদ মন্ডল, মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা রেজাউল ইসলাম, ছাত্র নেতা সাদ্দাম হোসেন, মাষ্টার জয়দেব কুমার রায়সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সমগ্র কর্মসূচীর সঞ্চালনা করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ ইউনুছ মোল্লা।
এসময় বক্তারা বলেন, এক সময়ের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মৃনাল বাহিনীর ক্যাশিয়ার ও সেকেন্ড ইন কমান্ড, সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান বাবু ও রশীদুজ্জামানের একান্ত সহচর দেলুটী ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসী শিবপদ সরদার ও সত্যজিত সরদারের নেতৃত্বে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও চাঁদা ও দখলবাজী অব্যাহত রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের ফসল ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী নিজেদের অপকর্ম অব্যাহত রাখতে তারা উপজেলার লতা ইউনিয়নের চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও দখলবাজ আবু মুছার মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর ওই নেতার নির্দেশনায় তারা উপজেলাময় চাঁদাবাজী, দখলবাজীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রীতি সবুজ মৎস্য খামারের স্বত্বাধিকারী মাশফিয়ার রহমান সবুজের ৭ শ’ বিঘা চিংড়ী ঘের দখলে ব্যার্থ হয়ে বিএনপির বিতর্কিত ঐ শীর্ষ নেতার ইন্ধনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সোলাদানা ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান এস,এম এনামুল হকসহ বিএনপির ১২ জন নেতা-কর্মীকে আসামী করে চাঁদাবাজীর মামলা দিয়ে হয়রাণি করছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে রাজনৈতিক স্বগোত্রীয় প্রতিদ্বন্দিদের কোনঠাসা ও নিধনে ফ্যাসিস্ট দোসরদের দিয়ে তারা এ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
তারা বলেন, ১/১১ এর প্রেতাত্মা, মুখোশধারী উপজেলা বিএনপির নেতা ও তার অনুসারীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজী, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রাখায় বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও বিভ্রান্ত হচ্ছে। সম্প্রতি পাইকগাছা উপজেলায় অনলাইন জুয়ার কতিপয় মাষ্টার মাইন্ড ও চাঁদখালী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের আহবায়ক আরাফাত হোসেন স্বপ্নীলকে থানা থেকে ছাড়াতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে জোর তদবীর করেন। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে।
সন্ত্রাসী সত্যজিৎ ও শিবপদসহ তাদের চিহ্নিত গডফাদার চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে আগামী ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় নতুন কর্মসূচী দিবেন বলেও জানান তারা।