একটি ম্যাচ-যার প্রতিটি মিনিট ছিল যেন একটি নতুন অধ্যায়। একেকটা গোল যেন বুলেট হয়ে বিদ্ধ করছিল প্রতিপক্ষের বুক, আবার আশার আলো ছড়াচ্ছিল নিজের শিবিরে। এমন রুদ্ধশ্বাস, নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনাল ইউরোপিয়ান ফুটবলের বর্ণিল ইতিহাসে হাতে গোনা। এই ম্যাচ একদিকে বার্সেলোনার বেদনার ব্যাখ্যা, অন্যদিকে ইন্টার মিলানের স্বপ্নের ফিনিশিং লাইন ছোঁয়ার গল্প।
বার্সেলোনার ঘরের মাঠেই গতকাল রাতে যা ঘটল, তা শুধু একটি খেলা নয়-একটি নাটক, একটি সিনেমা, একটি যুদ্ধ, একটি শোকগাথা। কিন্তু শেষ দৃশ্যে হাসল শুধু একটি দল-ইন্টার মিলান।
৩০ সেকেন্ডেই দুই গোল! ইতিহাস কি শুরুতেই লেখা হয়ে যাচ্ছিল?
ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচ শুরু হতে না হতেই যা ঘটল, তা যেন দর্শকদের শ্বাস আটকে দিল। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে দুই গোল করে ইন্টার বুঝিয়ে দিল-তারা এসেছে ইতিহাস লিখতে, প্রতিশোধ নিতে, নিজেকে ছাপিয়ে যেতে।
লাউতারো মার্টিনেজ এবং কালগানগলু-এই দুই নাম হয়ে উঠল স্প্যানিশ রাজধানীতে কাতালান আত্মবিশ্বাসের মৃত্যুঘণ্টা।
ক্যামব্যাকের বার্সা, নাট্যকারের মতো লিখল স্ক্রিপ্ট!
তবে বার্সা কি আর হাল ছেড়ে দেয়? এ তো সেই বার্সেলোনা, যারা আগেও ৪-০ থেকে ফিরে ইতিহাস লিখেছে। এবারও সেই ইতিহাস লেখার প্রস্তুতি নিয়েছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে একেবারে বিদ্রোহী রূপে। এরিক গার্সিয়া, দানি অলমো এবং রাফিনহার গোল বার্সাকে নিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত দ্বারে-ফাইনাল!
ক্যাম্প ন্যু তখন উৎসবের দরজায়। সমর্থকদের মনে তখন আশার রঙিন রোলার।
তবু শেষ কথা বলে যে ফুটবল!
তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত কামব্যাক করে বার্সা। ৫৪তম মিনিটে এরিক গার্সিয়া, ৬০তম মিনিটে দানি অলমোর গোলে সমতায় ফেরার পর রাফিনহার গোলে ফাইনালে পা রাখার উল্লাস করে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
তবে গল্পের শেষটা তখনো লেখা বাকি রেখেছিল স্বাগতিকরা। ৯৩তম মিনিটে গোল করে সবাই নিশ্চুপ করে দেন আছার্বিক। আর বার্সা শিবিরে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ফ্রাত্তেসি। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৬ ব্যবধানের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ইন্টার।