যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে হাওয়ার গতিতে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন-নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে যেন মরিয়া চেষ্টা। প্রশাসন হোক ছোট, ব্যয় হোক কম, আর বিশ্বে আমেরিকার ভূমিকা হোক নতুনভাবে নির্ধারিত-এই ছিল তার ঘোষণা। কিন্তু বাস্তবতা এখন অনেক কঠিন।
নির্বাহী আদেশ দিয়ে যেসব কাজ শুরু হয়েছে, এখন তা স্থায়ী করতে হলে চাই আইন। আর আইন পাস করতে হলে দরকার কংগ্রেসে ঐক্য, যা রিপাবলিকানদের মধ্যেও এখনো দুর্লভ।
শুরুতেই চমক, এখন সামনে চ্যালেঞ্জ
বাজার বিশ্লেষক স্টিফেন ডোভার বলছেন, "প্রথম ১০০ দিনে ট্রাম্প গতিময় ছিলেন, কিন্তু প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এখন শুরু।" আইন পাস, বাজেট সংকট ও কংগ্রেসে ঐক্য-এগুলো কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হয় না।
ট্রাম্প এই ক’মাসে ১৪০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন। বিষয়গুলো ছিল অভিবাসন, সরকারি খরচ কমানো, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা-সবই বড় বড় ইস্যু। কিন্তু এসব আদেশ আইনি ভিত্তি পায়নি। আদালতের চ্যালেঞ্জে পড়েছে অনেক আদেশ, যেগুলো ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট সহজেই বাতিল করতে পারেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস,তবু ঐক্য নেই
ট্রাম্পের লক্ষ্য এখন সীমান্ত নিরাপত্তা, কর সংস্কার, জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে বড় ধরনের আইনি সংস্কার। কিন্তু কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের মধ্যেই মতভেদ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংরক্ষণশীল গোষ্ঠী চাই খরচ কমিয়ে করছাড়, আবার মধ্যপন্থীরা নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কাটছাঁটের বিরোধিতা করছেন। ফলে কারো কথাই পুরোপুরি ধরা যাচ্ছে না।
টেকসই পরিবর্তনে দরকার রাজনৈতিক সমঝোতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন রাজনৈতিক সাহস ও সমঝোতার পথে না হাঁটলে ট্রাম্পের পরিকল্পনাগুলো কাগজেই থেকে যাবে।
তার আগের মেয়াদে ‘অবামাকেয়ার’ বাতিল করতে পারেননি, কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। কিছু সাফল্য ছিল-ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের শান্তিচুক্তি, কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু অনেক কিছুই হয়নি পরিকল্পনামাফিক।
প্রথম ১০০ দিনে মাত্র ৫টি বিল আইন হয়েছে, যা আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে কম।
বাজেট আর গণিত: সব পরিকল্পনার বড় বাধা
রিপাবলিকানরা চাইছেন ২০১৭ সালের করছাড় আবার চালু করতে এবং শ্রমিকদের জন্য বাড়তি বোনাস চালু করতে। কিন্তু সমস্যা হলো-এই পরিকল্পনার খরচ আগামী দশকে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার!
রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যান্ড্রু কনেস্কাস্কি বলেন, "সবাইকে খুশি করতে চাইলে অঙ্কের হিসাব মিলানো কঠিন। রাজনীতি দিয়ে অর্থনীতি চালানো যায় না।"
সময় ফুরাচ্ছে,নির্বাচন আসছে
২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচন ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসছে। তখন কে সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুইং জেলার ভোটের ওপর। ফলে ট্রাম্পের হাতে সময়ও খুব বেশি নেই।
তিনি এখন ‘রিকনসিলিয়েশন’ নামের এক বিশেষ নিয়মে সিনেট পাসের চেষ্টা করছেন, যাতে ডেমোক্র্যাটদের ছাড়াই বিল পাস করা যায়। কিন্তু এই পথও সহজ নয়।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ ইতোমধ্যে ট্রাম্পের এজেন্ডাকে ‘অমানবিক’ বলে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, "এমন নীতি আবার যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করব।"