সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

আবারও রক্তাক্ত দক্ষিণ সুদান, হাসপাতালে হামলায় ৭ জন নিহত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-০৪ ০১:১৭:৩০
ছবি সংগৃহিত

দক্ষিণ সুদানের উত্তরের শহর ওল্ড ফ্যাঙ্গাকে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাতজন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। ধ্বংস হয়ে গেছে একমাত্র কার্যকর হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান। দাতব্য চিকিৎসাসংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) শনিবার এসব তথ্য জানায়।
এ হামলার পর দক্ষিণ সুদানের রাজনৈতিক অস্থিরতা আবারও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাশারের মধ্যে পুরনো বিরোধ ফের নতুন করে জ্বলতে শুরু করেছে।

হাসপাতালে হামলা, আতঙ্ক ছড়ালো শহরজুড়ে
ডাক্তারদের সংগঠন এমএসএফ জানিয়েছে, বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, “এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা বোমা থামাতে এবং বেসামরিকদের রক্ষা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
এ হামলার কিছুক্ষণ পর শহরের বাজারের কাছেও আরও একটি হামলা হয়। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন গৃহযুদ্ধের ইঙ্গিত?
দক্ষিণ সুদানে বর্তমান সরকার মূলত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের জোট। প্রেসিডেন্ট কির ডিনকা জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আর তার বিরোধী রিয়েক মাশার নুয়ের সম্প্রদায়ের। ওল্ড ফ্যাঙ্গাক শহরটি মূলত মাশারের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে গৃহবন্দি থাকা মাশারের অনুগতদের ওপর সরকারি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্চ থেকে শুরু করে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা বিশেষ করে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দূতাবাস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “দক্ষিণ সুদানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।” তারা মাশারের মুক্তি ও রাজনৈতিক সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বারবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। ২০১৩ সালের গৃহযুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। পরে ২০১৮ সালে একটি শান্তিচুক্তি হলেও এখন তা আবার ভেঙে পড়ার পথে।
এদিকে দেশটির সাধারণ নির্বাচন দুবার পেছানো হয়েছে। ২০২৬ সালের আগে তা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।


এ জাতীয় আরো খবর