রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

স্মরণ-সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার প্রেমেন্দ্র মিত্র

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৫-০৩ ১২:০৪:০২

প্রেমেন্দ্র মিত্র একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক। তাঁর সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা'।
জন্ম ৪ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে কাশীতে। তাঁর পিতার নাম তাপস মিত্র। তিনি রেলে চাকরি করতেন।
প্রেমেন্দ্র মিত্র ১৯২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়ে গোবিন্দ ঘোষাল লেনের একটি মেসে থাকার সময় ঘরের জানলার ফাঁকে একটি পোস্টকার্ড আবিষ্কার করেন।
চিঠিটা পড়তে পড়তে তাঁর মনে দুটো গল্প আসে। সেই রাতেই গল্পদুটো লিখে পরদিন পাঠিয়ে দেন জনপ্রিয় পত্রিকা 'প্রবাসী' তে।
১৯২৪ সালের মার্চে প্রবাসীতে 'শুধু কেরানী' আর এপ্রিল মাসে 'গোপনচারিণী' প্রকাশিত হয়, যদিও সেখানে তাঁর নাম উল্লেখ করা ছিল না।
সেই বছরেই কল্লোল পত্রিকায় 'সংক্রান্তি' নামে একটি গল্প বেরোয়। এরপর তাঁর 'মিছিল' এবং 'পাঁক' নামে দুটি উপন্যাস বেরোয়। পরের বছর 'বিজলী' পত্রিকায় গদ্য ছন্দে লেখেন 'আজ এই রাস্তার গান গাইব' কবিতাটি।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম কবিতার বই ‌'প্রথমা' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। বৈপ্লবিক চেতনাসিক্ত মানবিকতা তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
প্রথম জীবনে তাঁর ছোটো গল্পের তিনটি বই বেরোয় - 'পঞ্চশর', 'বেনামী বন্দর' আর 'পুতুল ও প্রতিমা'।
মানুষের সম্পর্কের ভাঙ্গা গড়া, মনের জটিলতা, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ব্যাথা বেদনার কথা প্রকাশে প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন স্বকীয়তায় অনন্য।
ঘনাদা ও পরাশর প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট জনপ্রিয়তম চরিত্র।
ঘনাদা, গল্পবাগীশ সর্বজ্ঞানী মেসবাড়ির ঘনশ্যাম দাস আজও সব বয়েসের পাঠকদের কাছে প্রিয়।
তাঁর এই অমর চরিত্র ৭২ নং বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির বাসিন্দা ঘনাদা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
এছাড়াও তিনি অনেকগুলি ছোট গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন যার মুখ্য চরিত্র পরাশর বর্মা, যে পেশায় গোয়েন্দা হলেও নেশায় কবি।
তাঁর সৃষ্ট চরিত্র মামাবাবুকে তিনি বহু এডভেঞ্চার উপন্যাস ও ছোটগল্পে এনেছেন যেগুলি কিশোরদের ভেতর জনপ্রিয় ছিল।
প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রথম বাঙালি সাহিত্যিক যিনি নিয়মিত কল্পবিজ্ঞান বা বিজ্ঞান-ভিত্তিক গল্প-উপন্যাস রচনায় মনোনিবেশ করেন।
তাঁর বিজ্ঞান সাহিত্য রচনার শুরু ১৯৩০ সালে। 'রামধনু' পত্রিকায় ক্ষিতীন্দ্রনারায়ন ভট্টাচার্য তাঁকে ছোটদের জন্যে লিখতে অনুরোধ করলে 'পিঁপড়ে পুরান' কাহিনীটি লেখেন। এটিই তাঁর প্রথম কল্পবিজ্ঞান রচনা।
'কুহকের দেশে' গল্পে তাঁর কল্পবিজ্ঞান ও এডভেঞ্চার কাহিনীর নায়ক 'মামাবাবু'র আত্মপ্রকাশ। ১৯৪৮ সালে 'ড্রাগনের নিঃশ্বাস' বের হলে 'মামাবাবু' পাঠক মহলে জনপ্রিয় হন।
পরিচালিত চলচ্চিত্রসমুহ - পথ বেঁধে দিল, রাজলক্ষ্মী (হিন্দি), নতুন খবর, চুপি চুপি আসে, কালোছায়া, কুয়াশা, হানাবাড়ী তাঁর পরিচালিত ছবি। এছাড়াও তিনি বহু সিনেমার কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও উপদেষ্টা ছিলেন।
পাকস্থলির ক্যান্সারের কারণে অসুস্থ হয়ে ৩ মে ১৯৮৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ভগ্নস্বাস্থ্যেও সৃষ্টিশীল ছিলেন ১৯৮৭ পর্যন্ত।
 


এ জাতীয় আরো খবর