মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

মেসি-সুয়ারেজদের দুঃস্বপ্ন, ইতিহাস গড়ল ভ্যানকুভার এফসি

  • স্পোর্টস ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-০১ ১৫:৫৮:৪৪
ছবি সংগৃহিত

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের রোমাঞ্চঘন সেমিফাইনালে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের ইন্টার মায়ামিকে হটিয়ে চমক সৃষ্টি করল কানাডিয়ান ক্লাব ভ্যানকুভার এফসি। প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিল দলটি, আর সেই পথচলা স্মরণীয় করে রাখল এক অবিস্মরণীয় জয় দিয়ে।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে, মায়ামির চেইস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগে ভ্যানকুভার ৩-১ গোলে উড়িয়ে দেয় স্বাগতিক ইন্টার মায়ামিকে। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১। ফলে ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন ক্লাবটির জন্য শেষ চারের বাধাটিই হয়ে দাঁড়াল যন্ত্রণার দেয়াল।
ম্যাচের সূচনা যদিও আশা জাগিয়েছিল মেসি-সুয়ারেজদের। মাত্র ৯ মিনিটেই দুই তারকার সমন্বিত পাসে জর্ডি আলবা গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মায়ামি। তখনো মনে হচ্ছিল, হয়তো একটা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হতে চলেছে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের দৃশ্যপট বদলে দেন ভ্যানকুভারের ফুটবলাররা। ৫১ মিনিটে ব্রেইন হোয়াইটের গোলে সমতায় ফেরে দলটি। আর ৫৩ মিনিটে পেদ্রো ভিতে আরও একবার জালে বল পাঠিয়ে মায়ামির স্বপ্নে ছায়া ফেলে দেন। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই আসে শেষ কোপ— ৭১ মিনিটে সেবাস্তিয়ান বারহেল্টারের গোল ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয় চূড়ান্তভাবে।
মায়ামি মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলপোস্ট আর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক হয়ে উঠল তাদের দেওয়াল। পরিসংখ্যান বলছে, ইন্টার মায়ামি ম্যাচে নিয়েছিল ১৭টি শট, যার মধ্যে মাত্র একটিই ফল এনে দেয়। বিপরীতে ভ্যানকুভারের ১০ শটের ৬টি লক্ষ্যে যায়, আর তিনটি পায় জালের ঠিকানা।
ম্যাচটি ছিল যথেষ্ট শারীরিক সংঘর্ষে ভরপুর—দুই দলই সমান ১৬টি করে ফাউল করে, যার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২। তবে মাঠের ভেতরের বাস্তবতায় এগিয়ে ছিল ভ্যানকুভার, পরিকল্পনা ও দৃঢ়তায়ও।
এই পরাজয়ে মেসি, সুয়ারেজ ও তাদের সতীর্থদের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ঘটল। অন্যদিকে, ভ্যানকুভার এফসি তাদের ক্লাব ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করল, প্রথমবারের মতো কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনালে নাম লেখানোর গৌরব অর্জন করে।

 


এ জাতীয় আরো খবর