রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আড়াই টন প্রণোদনার সার,বীজ দোকানে বিক্রির অভিযোগ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৪-২৯ ২৩:৪০:৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার শাজাহানপুর  ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ১২০ জন  তৃণমুল ও প্রান্তিক  কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা ২.৪ মে.টন রাসায়নিক সার এবং ৬০০ কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ  প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করে দোকানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পরে জানতে পেরে উর্ধতণ কৃষি কর্মকর্তারা ওই সার,বীজ সংশ্লিস্ট ক্রেতাদের নিকট থেকে  উদ্ধার ও জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসে ফেরৎ এনে জমা করেছেন। ২০২৪-২৫ খরিপ-১ মৌসুমের জন্য ওই সার ও বীজ বিতরণের কথা ছিল।  প্রাথমিক তদন্তের পর  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উর্ধতণ কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিন কৃষকের স্বাক্ষর ও  পূণ: যাচাইকারীর স্বাক্ষর জাল করে এই কাজ করেছেন। তবে এ ঘটনার সাথে  কৃষি বিভাগের অন্য আরও কেউ কেউ জড়িত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্তের দেখার জন্য  উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে,গত শনিবার(২৬ এপ্রিল)  শাজাহারপুর ইউনিয়নের  তালিকাভূক্ত ৭৫০ জন কৃষকের মাঝে সার,বীজ বিতরণ করা হয়। তবে ওই ১২০ কৃষক তা পান নি। পরদিন গত রবিবার (২৭ এপ্রিল) সং¤িøস্ট উর্ধতণ কর্মকর্তারা অনিয়মের বিষয়টি টের পান। গত সোমবার(২৮ এপ্রিল) জেলা শহরের মহাডাঙ্গা এলাকার  সাইফুল ট্রেডার্স নামে একটি  সারের দোকান ও  শাজাহানপুর ইউনিয়নের  রুহুল আমীন নামে একজন বীজের ডিলার ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের নিকট থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বিক্রি হওয়া  ৫০ কেজির ২৪ বস্তা  মিউরেট অব পটাশ(এমওপি) ২৪ বস্তা  ডাই এমানিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং ১০ কেজির ৬০ বস্তা  বীজ জব্দপূর্বক ফেরৎ আনা হয়। ক্রেতারা  কর্মকর্তাদের নিকট দাবি করেছেন,তাঁরা জানতেন না এসব প্রণোদনার। গত মঙ্গলবার(২৯এপ্রিল) বিষয়টি জানা জানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি পূর্ণবাসন কমিটির সদস্য সচিব সুনাইন বিন জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। সমগ্র উপজেলায় ৬হাজার ৫০০ কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে ডিএপি,১০কেজি করে এমওপি ও ৫ কেজি করে বীজ বিতরণের কথা ছিল। বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে তাঁর দপ্তর।
জেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড,ইয়াসিন আলী বলেন, সার বীজ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ   পাওয়া গেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিনের বিরুদ্ধে  এই অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক সহ উর্ধতণ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সার, বীজ ফেরৎ এনে কৃষি অফিসে রাখা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপাের পূর্ণ তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বের হবে। কিভাবে অনিয়ম হল এবং কারা কারা এর সাথে জড়িত তা  জানা যাবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি পূর্ণবাসন কমিটির সভাপতি তাছমিনা খাতুন বলেন, গত মঙ্গলবার(২৯এপ্রির) তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বহু নজরদারির পরও এমন অনিয়ম হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী জড়িদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বারবার যাচাই করে প্রকৃত কৃষকের তালিকা করা হয় এবং বিতরণেরও রয়েছে  জাতীয় পরিচয়পত্র জমা ও স্বাক্ষর দিয়ে আবারও যাচাই করে দেয়ার প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়ায় জড়িত সকলেই দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করেছেন কিনা সেটিও তদন্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

 


এ জাতীয় আরো খবর