সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে ৫ দফা প্রকল্পের দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

  • ফারুকুজ্জামান,কিশোরগঞ্জ :
  • ২০২৫-০৩-২৩ ১৪:০২:১৫

কিশোরগঞ্জে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প (৮ম পর্যায়) পাসের জন্য মৌশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কিশোরগঞ্জের হাজার হাজার শিক্ষক এক ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ইফার সুপারভাইজার হাফেজ মাও একেএম মোস্তফা কামাল, মৌশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাও এমরুল হাসান, সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও আমিনুল হক, কটিয়াদী শাখার মাও জহিরুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া মাও ফখর উদ্দিন, মাও ইসলাম উদ্দিন, মাও ইশাম উদ্দিন, মাও সোলায়মান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প।  মসজিদের ইমাম, শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষা সম্প্রসারণে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে, সরকার মসজিদ-ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী এবং নিরক্ষর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মসজিদ-ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি শুরু করে। এটি ১৯৯৩ সালে চালু হয়েছিল এবং আজ পর্যন্ত (৭ম পর্যায়) সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে এটি সুষ্ঠুভাবে এবং সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পে, মসজিদের ইমামরা মসজিদ কেন্দ্রগুলিতে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের বাংলা, গণিত, ইংরেজি, আরবি, নীতিশাস্ত্র এবং মূল্যবোধ সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান করছেন। দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোর্স স্নাতকদের ভর্তির হার বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের বেশিরভাগ সুবিধাভোগী হলেন সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র এবং নিরক্ষর অংশ। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গত ৩৩ বছর ধরে এ দেশে প্রায় ৭৩,৭৬৮ জন শিক্ষক অবহেলিত রয়েছেন।  কিশোরগঞ্জে প্রায় ১,৬০০ শিক্ষক প্রকল্পে কর্মরত মসজিদ ইমাম শিক্ষকদের মানবিক দিক বিবেচনা করে, জনানন্দিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের বৃহৎ প্রকল্পের সকল শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করে তাদের সরকারী গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।
আমাদের ৫ দফা দাবি হলো: ১. নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের জন্য মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি প্রকল্প (৮ম পর্যায়) রমজান মাসের মধ্যে পাস করতে হবে। ২. ঈদুল ফিতরের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাসসহ বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। ৩. প্রকল্পটি স্থায়ী করতে হবে। এটি কোনওভাবেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে না। ৪. প্রয়োজনে শিক্ষকদের কেন্দ্র স্থানান্তরের সুযোগ দিতে হবে। ৫. শিক্ষকদের অসুস্থতা, অবসর বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে শিক্ষক তহবিল গঠন করে এককালীন বেতন প্রদান করতে হবে।
মানববন্ধনের পর, প্রধান উপদেষ্টা জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।  এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মহসিন খান এবং ইফা শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

 


এ জাতীয় আরো খবর