রাজনীতির বিরাট শক্তি। শাহবাগে রাজাকার বিরোধী যে গণজাগরণ হয়ে গেল, তাতে অনেক হতাশ ছেলের কপাল খুলে যায়। আগে এরা পার্কের বেঞ্চে বসে গাঁজা খেতো আর ভাবতো--তাইলে কী করা যায়? এখন দেখতেছি, এদের টাইম নাই! খুব ফিটফাট; হাতে নোটপ্যাড; নগদ টাকায় নেশা কেনে; আর স্বাধীনতা নিয়ে ভুলভাল বুলি কপচায়। আমাকে দেখলে তৎপর হয়ে বলে--ভাইরে চা দে। আর কিছু খাইবেন?
আমি হাসি--তো? রাতে যে পার্কে দেখি না! কই ঘুমাও?
হোটেলে উঠে গছি, ভাই। রেষ্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়া করি।
টাকা পাও কই?
রাজনীতি করি না! পলিট্রিক্সেইতো পয়সা। নেন; ব্যানসন ধরান।
রাজনীতিতে ফিটিং বলে একটা কথা আছে। সিটিং, ইটিং এরপর ফিটিং। সঙ্গে মেয়েলোক থাকলে মক্কা-মদিনা।
গণজাগরণের সময় যখন দিন-রাত একাকার হয়ে শাহবাগ গমগম করছিলো, তখন এদের ঘুম ভাঙ্গে--এইতো মক্কেল ধরার মোক্ষম সময়। এদিকে যখন ছাত্র-ছাত্রীরা 'তুই রাজাকার, তুই রাজাকার...' বলে গলা ফাটায়, ওরা তখন ধর্মপন্থি রাজনীতিকদের বাসায় গিয়ে হানা দেয়। নিজের পরিচয় দেয়, গণজাগরণপন্থি বিরাট ক্যাডার। হয়ে যায় কাজ। দশ-বিশ হাজার থেকে দু'চার লাখ; যে যা পারে হাতিয়ে নেয়। এরা খুশি তো ওরা নিরাপদ।
চপল খান ছিল ছিটকে পড়া ছাত্রনেতা। গণজাগরণের ছবি তুলে দামি মোবাইলে ভরে নিয়ে সরকার দলীয় পাতি নেতাদের অফিসে হাজির হয়। লুম্পেন নেতা বলে--বাহ চপল, তুমিতো দেখতেছি খুব তৎপর।
চপল বলে--ভাই, 'স্বাধীনতা চাই' নামে একটা সংগঠন খুলছি। আপনি ভাইস-প্রেসিডেন্ট। এখন টাকা দেন।
নেতার দরকার প্লাটফর্ম। চপলের চাই টাকা। হয়ে গেল ডিল।
গণজাগরণ শেষ হয়ে যায়। চপলের তৎপরতা থামে না। মঞ্চ সাজিয়ে পার্কে মিটিং ডাকে। দাওয়াত-পত্রে বড় বড় নেতার নাম। সাথে গান, কবিতা।
সন্ধ্যায় রাবিন্দ্রীক সাজের একটা মেয়ে এসে বলে--ভাইয়া, সবার আগে আপনি বক্তব্য রাখবেন।
তুমি কে?
আমি সোহেলী। 'স্বাধীনতা চাই' সংগঠনের উপ-সম্পাদক।
চপলের কালেকশন?
মেয়েটা হাসে--আমাকে ছাড়া ওর একটা দিনও চলে না।
দিনেতো বুঝলাম; রাতে?
আমরা মগবাজারে ফ্লাট ভাড়া নিয়েছি। ভাইয়া, আপনি ছাড়া আর কেউ যেন না জানে।
রাজনীতি খুব জটিল খেলা। এই ফুটপাতে চপ্পল পায়ে; পরক্ষণেই পাজেরোতে।
ইদানিং চপল খানকে পার্কে দেখিনা। সোহেলী কিন্তু মাথায় ফুলের মুকুট পরে ঘুরে বেড়ায় আর ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা মারে।
জানতে চাই-- চপলের খবর কী? খুব ব্যস্ত মনে হয়।
মেয়েটা মনখারাপ করে বলে--কেন! পেপারে দেখেন নাই?
না তো। ঘটনা কী?
চপলতো জেলখানায়।
আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। মেয়েটা জানায়, ভূয়া প্রজেক্ট বানিয়ে ওর এক গাঁজাখোর সচিব বন্ধুকে শো করে এক ব্যবসায়ির চল্লিশ লাখ টাকা মেরে দিয়ে ফেঁসে গেছে।
টাকাগুলো কোথায়?
আমার একাউন্টে। জামিনে বেরিয়ে ফেরৎ নেবে বলেছে। আচ্ছা বলুনতো ভাইয়া, ততোদিন কী আমি দেশে থাকবো! আমি কী অতো বোকা!