চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর,নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক ৩টি অভিযানে নকল কীটনাশক তৈরীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া ৫৮৬ বস্তা সার জব্দ হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩ জনকে ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে নকল কীটনাশক তৈরীর দায়ে ১ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বাজার এলাকায় মেসার্স সদের ট্রেডার্স নামে একটি সার ও কীটনাশকের দোকনে ও গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালায় কৃষি বিভাগ। অভিযানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিকের মিশ্রণে নকল কীটনাশক তৈরীর সময় দোকান মালিক সদের আলীকে (৩৮) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অভিযানে জব্দ হয় ৫৭৩ বস্তা বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার। অভিযানে নকল কীটনাশক তেরীর দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১ বছরের কারাদন্ড,৩ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ড দেন। সদের আলী আতাহার এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
সূত্র আরও জানায়,অভিযানে সার ও কীটনাশকের সদের আলীর রাসায়নিক সারের ষ্টক রেজিষ্টারের সাথে মজুদ সারের ব্যাপক পার্থক্য পাওয়া যায়। দোকানদার বিক্রয় রশিদ এবং বিক্রয় রেজিষ্টার প্রদর্শণ করতে ব্যর্থ হন। কাগজপত্রের তুলনায় মজুদ বেশি রয়েছে। ফলে মজুদ সন্দেহজনক হওয়ায় গোডাউনে থাকা ৩০৭ বস্তা ইউরিয়া,২৪৪ বস্তা এমওপি,১৯ বস্তা ডিএপি ও ৩ বস্তা ট্এিসপি জব্দ করে সংশ্লিস্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবিলম্বে তা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লগ্ধ টাকা দোকান মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। অপরদিকে, জব্দকৃত রাসায়নিক পদার্থ শনাক্ত করে বিক্রিযোগ্য পদার্থ বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা এবং ধ্বংসযোগ্য পদার্থ পরিবেশের ক্ষতি না করে ধ্বংস করার জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) একরামুল হক নাহিদ বলেন, সদের আলীকে ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা এবং ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ১ বছর কারাদন্ড, ৩ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। তাঁর দোকান ও গোডাউন তল্লাশীতে মিলেছে বিপুল পরিমান রাসায়নিক পদার্থ,প্লাষ্টিকের বোতল,কীটনাশকের খালি প্যাকেট ও প্যাকেটজাত করার মেশিন। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে গোমস্তাপুরে সারের অবৈধ মজুদের দায়ে মোশারফ হোসেন নামে এক দোকানদারকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর দোকান থেকে জব্দ হয়েছে ১৩ বস্তা ডিএপি সার। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোমস্তাপুরের ইউএনও জিল্লুর রহমান পার্বতীপুর ইউনিয়নের দীঘা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বলে নিশ্চিত করেন। এদিকে মঙ্গলবার(১৮ আগষ্ট) দুপুরে নাচোলে নেজামপুর বাজারে অধিক মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির দায়ে ইউসুফ আলী নামে এক সাব ডিলারকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন ইউএনও প্রিয়াংকা দাস বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ আকরাম।