পলাশের কোন ঘর নেই,
ঘর থাকতে নেই।
হারিয়ে যাওয়া অরণ্যের একাকিত্বে,
উদাসীন আলপথের বাঁকে,
কিম্বা বেনামী রেল লাইনের ধার ঘেঁষে,
সে কেবল অপেক্ষা করে এক বসন্ত থেকে আরেক বসন্তের।
পাপড়িতে রজনীগন্ধার বৈধতা লেগে নেই বলেই
পলাশ এমন আগুন রঙা।
যে আগুন কৃষ্ণের মতো আগন্তুক।
সে মন পোড়ায়, ঘরের কোন পোড়ায়, আত্মায় রাঁধে ভাত।
বেহিসেবি বাঁশির মেঠো সুর তার রেনুতে।
পলাশ লালে যে মৌ আছে রজনীগন্ধায় তা নেই,
পলাশ মূলে যে মাদল আছে রজনীগন্ধার তাও নেই,
রজনীগন্ধা অনেকটা, ধবধবে ধুতি পাঞ্জাবির শিক্ষিত মার্জিত হরিপাল বাবু গোছের।
যার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে সম্ভ্রমে মাথা নিচু হয়,
প্রাণে উচাটন জাগে না।
শঙ্খলাগা সাপে যেমন নিমগ্ন ডুব পলাশের প্রেমে তেমনই মুক্তির উদ্দামতা।
গৃহস্থ তার শয্যা পাতেনা ঠিকই,
তবে গৃহী সযত্নে তার আসন পাতে বুকে।
রজনীগন্ধার মতো
বাসর আদরে নরম হয় না পলাশ,
শবযাত্রায় হাঁটে না সে,
শুরু শেষের মাপজোক তার অজানা ।
তাই গলার মালা নয়,
মৃত্যুহীন বসন্তের টিকা ললাটে এঁকে
পলাশ চায় নাভিমূলের বেপরোয়া স্বপ্ন হতে।