কায়েস। শামসুদ্দিন ইমরুল কায়েস। অভিনেতা। এক সময়ে মঞ্চনাটকের দাপুটে অভিনেতা ছিলেন তিনি। অভিনয় করতেন রেডিও-টেলিভিশন নাটকেও। প্রতিষ্ঠিত চিত্রনায়ক হওয়ার আশায় ঢাকার চলচ্চিত্রজগতে আসেন। কিন্তু চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র কয়েকটি ছবিতে। অনেকেই মনে করেন, সত্যিকার অর্থে কায়েসের প্রতিভার মূল্যায়ন করা হয়নি বা তিনি সিনেমা দর্শকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই চিত্রনায়ক হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠা হয়নি। যদিও সে, তখনকার সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের বিপরীতে নায়ক হয়েছিলেন। পেয়েছিলেন নামীদামী চিত্রপরিচালকদের সান্নিধ্য। এক সময়ে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে একজন ভালোমানের চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তাঁর অভিনীত সব চলচ্চিত্রে। গুণী অভিনেতা কায়েস-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। প্রয়াত এই গুণী অভিনেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই । তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
কায়েস (শামসুদ্দিন ইমরুল কায়েস) ১৯৪০ সালের ১৬ জানুয়ারী, কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিসাহিত্যে অনার্স পাস করেন।
স্কুলজীবন থেকেই কায়েস অভিনয়ের সাথে যুক্ত হন। টানা ১৫ বছর দাপটের সাথে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন।মঞ্চনাটকের নায়ক হিসেবে সে সময়ে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
১৯৬৩ সালে, রাজশাহী বেতারে তিনি প্রথম অভিনয় শুরু করেন। বেতারের পর তিনি কলিম শরাফীর হাত ধরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করার সুযোগ পান। এক সময় বেতার এবং টেলিভিশনের জনপ্রিয় নাট্যশিল্পী হয়ে ওঠেন।
মেঘদূত কথাচিত্র প্রযোজিত, আসাদ পরিচালিত ‘ঘূর্ণিঝড়’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন কায়েস। তাঁর বিপরীতে নায়িকা ছিলেন কবরী। 'ঘূর্ণিঝড়' মুক্তি পায় ১৯৭০ সালে। এরপর নায়ক হিসেবে তিনি আরো অভিনয় করেন- ভাড়াটে বাড়ি, বাংলার ২৪ বছর, ঝড়ের পাখি, রক্ত শপথ, কুমারী মন, মন নিয়ে খেলা'সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে । এসব ছবিতে তিনি কবরী, সুজাতা, অলিভিয়া ও কবিতা'র মতো নামি-দামী নায়িকাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
পরবর্তিতে চরিত্রাভিনেতারূপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে রূপদান করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি'র মধ্যে- জয়বাংলা, বাংলার চব্বিশ বছর, নোলক, বন্দিনী, অবসান, যুবরাজ, রাজদুলারী, অংগার, বধূ বিদায়, সোহাগ, পাগলা রাজা, মহেশখালীর বাঁকে, অশিক্ষিত, আমির ফকির, বন্দুক, ইশারা, জাদু নগর, রজনীগন্ধা, রাজকুমারী চন্দ্রবান, অভিমান, আলাল দুলাল, সাম্পানওয়ালা, রেশমি চুড়ি, পুরস্কার, বানজারান, সুখে থাকো, ভাঙ্গাগড়া, মা ও মেয়ে, চন্দ্রলেখা, আখেরী নিশান, মৌচোর, বৌরাণী, রাজভিখারী, জোশ, হিসাব নিকাশ, রাই বিনোদিনী, কবুল, সুপারস্টার, ভাবীর সংসার, প্রেম যমুনা, রাম রহিম জন, একই রাস্তা, শরীফ বদমাশ, বিদ্রোহী, গরীব কেন কাঁদে, ঝুমুর, সাহেব, শুভরাত্রি, লড়াকু, দরদী শত্রু, কোহীনূর, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, বীর পুরুষ, মহারানী, লাখে একটা, ত্যাজ্যপুত্র, লাল বেনারসী, বিধান, শত্রু ভয়ংকর, বাঘের থাবা, স্বার্থপর, নিঃস্বার্থ, এখনো অনেক রাত, অন্যতম।
এরমধ্যে 'শুভরাত্রি' চলচ্চিত্রটি তিনি প্রযোজনা করেছেন।
প্রথম দিকে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করলেও পরবর্তিতে বিভিন্ন ছবিতে খলচরিত্রসহ নানাবিধ চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই গুণি অভিনেতা। সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে, একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে দক্ষতা দেখিয়েছেন সব ছবিতেই। অনেক চলচ্চিত্রেই তিনি গুরত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং একজন গুণি অভিনেতা হিসেবে দর্শকমহলে প্রসংশিত হয়েছেন।