শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

৩ দিন যাবৎ বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আন্ত:জেলা ও আঞ্চলিক রুটে চলাচলকারী বাস

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-১১-২৫ ২৩:২৩:৫০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস শ্রমিক নিয়ে গঠিত জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের সাথে জেলা ট্রাক,ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের দ্বন্দের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মালিকদের বাস চলাচল ৩ দিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে দ’ুপক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। তবে বাস বন্ধ থাকায় দূর্ভোগে রয়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিক সূত্র জানায়, সব ধরণের মোটর শ্রমিকদের নিয়ে জেলা ট্রাক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৮ সালে পণ্য পরিবহন(ট্রাক) ও যাত্রী পরিবহন(বাস)  শ্রমিকদের পৃথক করে সরকার। প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিকদের দু’টি সংগঠন। জেলা ট্রাক,ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন  ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বিষয়টি ২০১৬ সালে কার্যকর হয়। কিন্তু জেলার প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের অধিকাংশ নিজ নিজ সংগঠনে না গিয়ে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত  সংগঠনের উত্তরাধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ট্রাক সমিতিতেই থেকে  যান। অল্প কিছু সদস্য চলে যান বাস সংগঠনে। বাস সংগঠনটি তেমন অগ্রগতি করতে পারে নি। তবে এ নিয়ে শ্রমিকরা দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েন ও প্রতিদ্বন্দি দুটি গ্রæপ সৃষ্টি হয়।
এই ধারবাহিকতায় গত শনিবার(২৩ নভেম্বর) সকালে সাধারণ সভা ডাকে বাস শ্রমিক সংগঠন। সেখানে ডাক না পেলেও  সভা শুনতে যান টাক সংগঠনে যুক্ত বাসের কিছু শ্রমিক। সৃষ্টি হয় কোন্দল। মারামারিতে আহত হন সভা শুনতে যাওয়া ৫/৬ শ্রমিক। সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। আহতদের সহকর্মী শ্রমিকরা ব্যারিকেড দেয় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যান চলাচল শুরু হয়। কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল।
এ নিয়ে গত রবিবার(২৪ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেন মারধরের শিকার হয়েছেন দাবিকারী শ্রমিকরা। তারা বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়া ট্রাক শ্রমিক সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তারা বাস শ্রমিকদের ট্রাক সংগঠনে রাখতে চান না। কিন্তু  এতবছর যাবৎ ট্রাক সংগঠনে থাকা বাস শ্রমিকদের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ওই সংগঠনে যেতে হবে। এ জন্য সমঝোতা করতে হবে। জোর জলুম করলে হবে না। বাস সংগঠনের কার্যক্রম হতে হবে পরিস্কার ও প্রকাশ্য। কিন্তু তারা বেআইনী অনেক কিছু করছে।
এ ব্যাপাওে বাস শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দর রউফ জুলমত বলেন,তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সাধারণ সভা ভন্ডুল করতে বাসযোগে যাওয়া কিছু শ্রমিকদের প্রতিরোধ করলে কেউ আহত হতে পারেন। বাসের ওই শ্রমিকরা ও তাদের পক্ষের ট্রাক শ্রমিকরা যা করছেন  বা বলছেন তা আইনসম্মত নয়। এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে। চলমান বাস বন্ধের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।
এদিকে জেলা বাস মালিক গ্রæপ সভাপতি আমিনুল ইসলাম সেন্টু ও সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান শামিম বলেন, তারা দ্রæত সমস্যা সমাধানে  শ্রমিক ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কাজ করছেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রইস উদ্দিন বলেন,অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ জাতীয় আরো খবর