বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় পদ্মা বেড়েছে ১২,মহানন্দা ১০ ও পূণর্ভবা ১৫ সেমি,পদ্মা বিপদসীমার ৭৫ সেমি ন

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০৯-২৪ ২৩:৩৮:৫৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা,পাগলাসহ সকল নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। স্থানীয়রা,প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে,এতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা নদী তীরবতী ও নীচু জমির মূলত: মাসকলাই সহ বিভিন্ন কৃষি ফসল। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩১৫ জন ।  
পাউবো সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার বিপদসীমা ২২.০৫ মিটার। মঙ্গলবার(২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছিল ২১.৩০ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায় ১২ সেমি পানি বেড়ে পদ্মা বিপদসীমার ৭৫ সেমি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। । চাঁপাইনবাবগঞ্জের অপর প্রধান নদী মহানন্দার বিপদসীমা ২০.৫৫ মিটার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নদীটি প্রবাহিত হচ্ছিল ১৯.০৭ মিটারে। গত ২৪ ঘন্টায়  মহানন্দার পানি বেড়েছে ১০ সেমি। জেলার অপর নদী গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্ণভবার বিপদসীমা ২১.৫৫ মিটার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়  নদীটি ১৯.০৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘন্টায় এই নদীর পানি বেড়েছে ১৫ সেমি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব বলেন, বন্যার কোন পূর্বাভাস এখনও নেই। তবে সার্বিক পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। ১/২  দিনের মধ্যে পানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ  ফসলী জমির পরিমান বেড়ে ১ হাজার ৫৫৯ হেক্টর হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১২ হেক্টরই মাসকলাই। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা। এরপর সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলা রয়েছে আক্রান্তের তালিকায়। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৩১৫ জন কৃষক।  যদি দ্রæত পানি নেমে যায় তবে কিছু ফসল রক্ষা পেতে পাওে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি উর্ধতণ ও সংশ্লিস্ট সকল মহলকে জানানো হয়েছে। সাহায্য পাওয়া গেলে কর্ াহবে।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফতাবুজ্জামান আল-ইমরান বলেন,সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে পদ্মাবেষ্টিত পাঁকা ইউনিয়ন।  ইউপি ভবন ও পাঁকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পানি যে কোন সময় ঢুকে পড়বে। কিছু বাড়ির আঙ্গিনাতে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রয়োজনে উঁচু স্থানে ও আশ্রয় কেন্দ্রে জনসাধারণকে  সরিয়ে নেয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মনাকষা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নও বন্যা হুমকির মুখে। তলিয়ে গেছে কাঁচা সড়ক।পাঁকা ইউপির ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য রুহুল আমিন বলেন,৩৫টি বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছমিনা খাতুন বলেন, নারায়ন ইউনিয়নে একটি আশ্রয় কেন্দ্র,একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কম্যুনিটি ক্লিনিকে পানি ঢুকে পড়েছে। ক্লিনিকটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।জলমগ্ন হয়েছে নদী তীরবর্তী কিছু বাড়িঘর। সেসব থেকে লোকজন অন্যত্র চলে গেছে। সকল ক্ষয়ক্ষতির পরিমানের তালিকা করা হচ্ছে। উভয় কর্মকর্তা বলেন,শুকনো খাবারসহ ত্রাণের জন্য প্রস্তুততি নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি উর্ধতণ ও সংশ্লিস্ট সকল মহলকে জানানো হয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর