সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

জা মি রু ল শ রী ফ

  • একটি ক্যালেন্ডার প্রিন্টের চিত্র
  • ২০২৪-০৬-১৪ ০১:৫১:৪২

নবাবজাদা, আমি তোমার একশ একত্রিশটা প্রতিকৃতি 
দেখে হাসছি–যেখানে হৃদয় বলে কোনো পদার্থ নেই।

ফ্যাশনেবল বাজারে সন্ধেবেলা ভদ্রজনদের সমাগম,
বিকারগ্রস্ত ক্ষয়ে যাওয়া দলামোচড়া পাকানো রাজনীতিক-বণিক-উচ্চরাজকর্মচারীদের আসরে ভোগ, 
রাজভক্তির অতিবৃদ্ধির উৎপাত দেখি; স্বার্থের প্রভেদে
উৎকোচ গ্রহণ-বিতরণ চুক্তির চমক জাগে

আশকারা পেয়ে, খ্যাতি ও পুরস্কারের সঙ্কীর্ণ ও গোপন
রাস্তায়, উত্থানের সিঁড়ি বেয়ে মাথায় উঠে কাঁঠাল ভেঙে, 
রুই-কাৎলাদের ছিঁপে গাঁথার কৌশলও রপ্ত হয়েছে বেশ;

          অমানুষের মগজ পেটের মতো
          বদভ্যাসের ভূরিভোজনও সয়
          অভ্যাসদোষ সহজে যায় না

তোমার রক্ত হারামের সাথে এতটাই মিশে আছে 
যেখানে হৃদয় বলে কোনো পদার্থ নেই
বিবেকের কোনো বোঝা নেই
পাপের প্রায়শ্চিত্ত নেই 

টাকা কখনো নৈতিকতা শেখায় না, 
শেখায় শুধু নিজের পিছনে দৌঁড়াতে, 
আর এই রেসে যোগদানের পর 
স্বার্থের উজান বেয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে…

আমি ভুলে গেছি, আমি জানি না,
সময় কীভাবে উড়ে যায়—

নবাবজাদা, তোমার রূপকথারাজ্যের কাহিনি 
আমাদের স্নায়ু-শিরা-গ্রন্থির মধ্যে অভাবিত 
রোমাঞ্চের স্বাদ এনে দেয়।
অত্যাচারিত, অবমানিত মানুষের দেশে, মিছিলে 
সম্মেলনে, সমাবেশে বক্তৃতা-বিশ্লেষণ শুনি, হাত পা নাড়ে, 
বচন ঝাড়ে, কথা কয় রগ ফুলিয়ে, বক্তৃতার বেগে গলদঘর্মে উঠেন রেগে–
এ যেন বর্ষা ভরসা বিহীন সন্ধ্যামেঘে বৃথা গর্জন

কিছু হয় না ফলাফল। 
নির্গত বাক্য নিক্ষিপ্ত তীরের মতো, 
তাকে ফেরানো অসম্ভব। মানুষ মনে রাখে সব।
কল্পলোকের বাসিন্দা হবার প্রেরণায়
তুমি অন্যের ভূমিতে গর্ত খুঁড়ে 
নিজেই এর মধ্যে পড়ে যাচ্ছো,

কী-সে সান্ত্বনা ও মুক্তি? 
আমি দেখছি, আত্মহননের মতো
ফেরার পথ এখন রুদ্ধ। 
নবাবজাদা, আমি তোমার একশ একত্রিশটা 
প্রতিকৃতি দেখে সত্যিই আকাশ পর্যন্ত হাসছি।

কৃষিঋণ মওকুফ হোক না-হোক,
পশুশ্রমে জীবন কাটানো মানুষের উপর 
নিষ্ঠুরভাবে বেড়ে ওঠা তোমার লোভের থাবার নখ,
তার থেকে প্রবাহিত রক্তে এই অনন্য মাটি দূষিত

আমাদের ধমনিতে প্রবাহিত প্রতিবাদের ফল্গুধারা 
নির্বিবাদে ছোটে; ক্রোধে, ব্যঙ্গে ও বিদ্রূপের শানিত
শব্দাবলীতে ‘নবাবজাদা, তোমার বিচার হবে’। 

কারো পথে কেউ দাঁড়ায় না, যার যার নিজস্ব পথ আছে।
কিন্তু আমরা এক হলে অভেদ্য ফুটে উঠি, এবং এমন কিছু 
বছরে পৌঁছে যাই, যখন আমরা সত্যিই বছর সম্পর্কে চিন্তা 
করি না, কারণ আমরা জানি–তারিখগুলো শুধুমাত্র একেকটি সংখ্যা এবং 
মাস মূহুর্তগুলোর একটি সংগ্রহ—
আমরা ঠিকই মনে রাখি, 
আর আমরা যা করতে পারি তা হলো পুনরাবৃত্তি। 


এ জাতীয় আরো খবর