চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে চলতি মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়। গত বৃহস্পতিবার(১৬মে) পহেলা জৈষ্ঠ্য বিকাল ৫টার দিক থেকে সন্ধ্যা প্রায় ৭টা পর্যন্ত জেলার পাঁচ উপজেলার সবগুলোতে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড় বয়ে যায়। তবে সদরে এর তীব্রতা ছিল সবচাইতে বেশী। ঝড়ে ঝরে গেছে প্রচুর পাকার অপেক্ষায় থাকা আম। এবার গাছে আমের পরিমান খুব কম। এর উপর এই ঝড় চাষীদের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে। হেলে পড়েছে কিছু জমির পাকা ইরি ধান। উপড়ে গেছে কিছু গাছ,ভেঙ্গে গেছে ডাল,উড়ে গেছে ঘরের চালা। ঝড়ের কারণে গাছ ও ডাল ভেঙ্গে বিঘিœত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ বলে বিদ্যূৎ বিভাগ জানিয়েছে। এদিকে ঝড়ের সময় আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে সদওে মারা গেছে দুই শিশু। সদরে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে উপকার হবে গাছে অবশিষ্ট আমের।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ঝড়ে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঝরে গেছে কিছু আম। কিছু কাটার অপক্ষোয় থাকা ধান হেলে গেছে। বাতাসে কিছু পাকা ধান ঝরে গেছে। কেটে জমিতে স্তুপ করে রাখা কিছু ধান বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। এতে ওইসব ধানের ফলন সামাণ্য কমতে পারে। কলা ও ভুট্টা ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে বলেও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সদরে ৩০,শিবগঞ্জে ১৫,গোমস্তাপুরে ১৫,নাচোলে ৫ ও ভোলাহাটে ৫ মিলিমিটারসহ জেলায় গড়ে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত ১০ মে জেলায় গড়ে ১৬ মিলিমিটার ও এর আগে টানা ৩৮দিন অনাবৃষ্টির সাথে তীব্র তাপপ্রবাহের পর গত ৭মে থেকে ৮মে পর্যন্ত সদরে ৩৬ সহ জেলায় গড়ে ২৫মিলিমিটার স্বস্তির বৃষ্টি হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্পতর উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, শেষ বৃষ্টির পর প্রায় সপ্তাহ ধরে চলা মাঝারি তাপপ্রাবাহের মধ্যেই আঘাত হানে মৌসুমের প্রথম ঝড়। তবে এটা স্বাভাবিক। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড়ে কোন কৃষি ফসলের বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। কিছু আম ঝরে গেলেও গাছে থাকা আমের প্রচুর উপকার হবে বৃষ্টিতে। বোঁটা শক্ত হবে। গাছ ধুয়ে পরিস্কার হয়ে গোড়ায় সেচ হয়েছে। আম বড় ও সঠিকভাবে পরিপক্ক হবে। আর শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় উপকার হয়েছে সব ফসলেরই।
সদর উপজেলার রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাষী মন্টু মিয়া (৬৪) ও বিদিরপুর গ্রামের বিষু মিয়া(৪৯) বলেন, ঝড়ে প্রচুর আম ঝরে গেছে। যা কম ফলনের এ মৌসুমের জন্য বড় ক্ষতি। আর ঝড়বৃষ্টির পরও দাপপ্রবাহ কাটেনি। শুক্রবার দিনব্যাপী বয়ে গেছে তাপপ্রবাহ।