রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টিপাতে আম,ধানসহ মাঠে থাকা সব ফসলের উপকারের আশা

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৪-০২-২২ ২১:৪০:৪৭
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপ্ইানবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রথম বৃষ্টিপাত হয়েছে । বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রæয়ারী) ভোররাত ও সকালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ না হলেও দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত বুধবার(২১ ফেব্রæয়ারী) বিকালে সামাণ্য বৃষ্টি হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টা জেলায় গড়ে ৩.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ডের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায়২, শিবগঞ্জে ৩,নাচোলে ৫ ও ভোলাহাট ্উপজেলায় ৬ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে। গোমস্তাপুওে তেমন বৃষ্টি হয়নি। ফাল্গুনের বৃষ্টি প্রায় সব ফসলের জন্য ক্ষতিকারক ধরা হলেও এবার জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আমের মুকুল দেরিতে ফুটছে (স্থানীয় ভাষায় নামলা) বিবেচনায় ও বোরো ধান রোপণ চলমান থাকায় এই বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হবে না বলে কৃষি দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। কৃষকরাও তেমন আশা করছেন। বরং সংশ্লিস্টদের ধারণা, এই বৃষ্টি আম,ধানসহ মাঠে থাকা সকল ফসলের জন্য উপকার বয়ে আনবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার জেলায় আম চাষ হচ্ছে ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমে ছিল ৩৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর। আমচাষীরা এখন গাছ পরিচর্য়ার কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে পুরো ফাল্গুন মাস জুড়েই গাছে মুকুল আসবে। এদিকে জেলায় বোরো চাষের লক্ষমাত্রা রয়েছে ৫২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত রোপণ হয়েছে ৪৮ হাজার ২০২ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষমাত্রার ৯২ শতাংশ। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত রোপণ চলবে। গত বছর ৫১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছিল। বোরোর জন্য এই বৃষ্টি সেচের কাজ করবে। এখন মাঠে রয়েছে কাটার অপেক্ষায় থাকা গম (ফাগুনের শেষ থেকে উঠতে শুরু করবে গম), মসুর.বুট,ধনিয়া জাতীয় ফসল। সরিষা বেশিরভাগ উঠে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক পলাশ সরকার বলেন, প্রস্ফুটিত আমের মুকুল ছাড়া ধানসহ অন্য কোন মাঠ ফসলের ক্ষেত্রে এত সামাণ্য বৃষ্টি তেমন ক্ষতি করবে না। বরং কিছু হলেও উপকার হবে। তবে যে সব আম গাছের ফলন আগাম বা যেসব আমগাছে আগাম মুকুল এসেছে বা যে সকল চাষী যথাসময়ে সঠিকভাবে গছের পরিচর্য়া করেছেন (বাগান ব্যবস্থাপনা) শুধু তাদের গাছেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। নাচোল অঞ্চলে বেশ কিছু গাছে মুকুল এসেছে। তবে পুরোনো গাছে এবার মুকুল কম আসতে পারে। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে যথেষ্ট মুকুল আসার আশা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া যত গরম হবে মুকুল তত দ্রæত ফুটবে। উপ-পরিচালক আরও বলেন, এবার আমের অফ ইয়ার (ধারাবাহিকভাবে এক বছর আমের ফলন ভাল হয় ও পরের বছর একটু কম হয়। বেশি হওয়া বছরকে অন ও কম হওয়া বছরকে অফ ইয়ার ধরা হয়)। তাই ফলন কিছু কম হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আম নষ্ট হবে কম। কৃষকরা মূল্য বেশী পাবে। সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া(৬০) বলেন,বৃষ্টিতে উপকার হবে। গাছ ধুয়ে পরিস্কার হয়েছে। বৃষ্টির পর রোদ উঠে আকাশ পরিস্কার হয়েছে। আবহাওয়া সুন্দর হয়েছে। আম গাছের পরিচর্যা এখন চলমান। সদর উপজেলার রামকৃষ্টপুর গ্রামের অপর আমচাষী,বাগানী ও পেশাদার পরিচর্য়াকারী মন্টু মিয়া(৬৫) একই ধরণের মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,শেষ সময়ে মুকুল আসার পরিচর্যা এখন জোরেসরে চলছে।

এ জাতীয় আরো খবর