শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

ফসলের ন্যূনতম মূল্যের নিশ্চয়তার দাবীতে ভারতে কৃষকদের পদযাত্রায় টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০২-১৪ ০৯:৩০:৪৬

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ফসলের ন্যূনতম মূল্যের নিশ্চয়তা দিতে নতুন আইন প্রণয়ন, কৃষকদের জন্য পেনশন এবং শস্যবিমা চালু ও পুলিশী হয়রানি বন্ধের দাবিতে আবারও দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে ভারতের কৃষকরা। এসব দাবিতে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশের এক লাখেরও বেশি কৃষক এ আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। 
বিক্ষোভকারী কৃষকদের ঠেকাতে প্রশাসনও উঠেপড়ে লেগেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। শম্ভু সীমানা কৃষকদের দিল্লি চল কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল। পঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যবর্তী শম্ভু সীমান্তে জড়ো হওয়া কৃষকদের উপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও সে চেষ্টা বিফলে গেছে। ভারতের দুই শতাধিক কৃষক সংগঠন এ আন্দোলনে শামিল হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত টানা এক মাস ভারতের রাজধানীতে বলবত থাকবে ১৪৪ ধারা।
চার বছর আগে নতুন এক কৃষি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলো ভারত সরকার। সেই আইনকে কৃষকবিরোধী আখ্যা দিয়ে কৃষক নেতারা তখন বলেছিলেন, নতুন আইন মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করবে, দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে কৃষিপণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করবে, এবং কৃষকেরা ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করবে।  
নতুন আইনের বিরুদ্ধে তখন তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো ভারতের কৃষকরা। এক বছর ধরে চলা ওই বিক্ষোভে মারা যায় সাত শতাধিক কৃষক। আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে আইন বাতিল করতে বাধ্য হয়। 
আন্দোলনের চাপে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সেসময় ফসলের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি, কৃষিঋণ সহজীকরণ এবং স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলো। কৃষক নেতারা বলছেন ২ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। 
এবারের আন্দোলনে পঞ্জাব থেকে ব্যারিকেড ভেঙে হরিয়ানায় ঢোকার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। এসময় ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিবাদী কৃষকদের লক্ষ্য করে কাঁদানো গ্যাসের সেল ছোড়ে পুলিশ। 
এদিকে কৃষক আন্দোলন প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের স্থানীয় প্রশাসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হরিয়ানা রাজ্য সরকার দুটি বড় স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলে পরিণত করেছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর