রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

পাগলির প্রেমে মিরাজ খুশি

  • সেলিম আহমদ কাওছার
  • ২০২৪-০২-০৩ ০৯:১১:০৯

ব্যস্ততম নগরী ঢাকার লালমাটিয়ার পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিল এক যুবক নাম তার মিরাজ রাস্তার এপাশেই কাঁদামাখা ময়লার স্তুপে বসে আছেন এক পাগলি। এলোমেলো চুলে নোংরা জামা গায়ে পথের ধারে পড়ে থাকা সেই পাগলির কাছে ছুটে গেলো মিরাজ। সে দেখলো পাগলিটি গর্ভবতী! সে বুঝতে পারলো নরপশুদের বিকৃত লালসার স্বীকার হয়ে মেয়েটি গর্ভধারণ করেছে। এ অবস্থা দেখে মিরাজের মায়া লাগল! সে চিন্তা করল এখন কি করা যায়। তার ইচ্ছে হলো মেয়েটিকে কোন আশ্রমে নিয়ে যাই। তাই সে আশপাশে এমন একটি আশ্রম খুঁজে বের করে নিজেই পাগলিটি কে আশ্রমে নিয়ে গেলো।

শুরু হলো পাগলির এক নতুন জীবন। গোসল দিয়ে নোংরা জামা খুলে নতুন জামা পরিধান করিয়ে এলোমেলো চুল পরিপাটি করে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মেয়েটি যেহেতু মানসিক ভারসাম্যহীন তাই বেশির ভাগ সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। আশ্রমের কারো কথা শুনতে চায়না। কিন্তু মিরাজ যখন কোন কিছু বলে বা ধমক দেয় তখন সে সেটা শুনে! এরই মধ্যে তার গর্ভে ধারণ করা শিশু প্রসব হয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ।
খুব ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান তার কোল আলোকিত করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সে যদিও ঐ সন্তানের মা হয়েছে কিন্তু বাবা হয়নি কেউ! যাই হোক ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে উঠেছে এমনকি তার কোলে থাকা ছেলেটিও বেড়ে উঠেছে।  আশ্রমে আসার পর মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে ফাতিমা। আর তার ছেলের নাম রাখা হয়েছে আব্দুল্লাহ।
পাগলিটি যেহেতু আশ্রমের কারোর কথা শুনতে চায়না কিন্তু  মিরাজের কথা মেনে চলে তাই দিন দিন মিরাজ তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছে। সেই দূর্বলতা থেকে মিরাজ ঐ পাগলির প্রেমে পড়ে যায়। শুরু থেকেই তার প্রতি মিরাজের মায়া ছিলো তাই সময় যতো যাচ্ছে সে মায়া ভালোবাসায় রুপ নিচ্ছে। বর্তমানে ফাতিমার ছেলের বয়স এক বছর পূর্ণ হয়ে গেছে।
আশ্রমে থেকে সেবাশুশ্রূষা পেয়ে সেই পাগলি থেকে ফাতিমা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তাই মিরাজের মনে হলো ফাতিমাকে ভালোলাগার কথাগুলো সবার কাছে প্রকাশ করা দরকার।
মিরাজ একসময় আশ্রমের পরিচালক এবং তার নিজ আত্মীয় স্বজনদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলো। এতে সকলেই তার এই ভালোলাগা ভালোবাসার সংবাদে আনন্দচিত্তে সমর্থন দিলেন এবং খুশি হলেন। তারা ভাবলেন বর্তমান সময়ে এমন কয়জন যুবক আছেন যার নাম পরিচয় জানাশুনা নেই এমন একটি মেয়েকে বিয়ে করবে!
মিরাজের আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব চলে গেলো ফাতিমার কাছে। সেও মহা আনন্দে এই প্রস্তাব গ্রহণ করে নিলো। এবং বলে দিল আমিও মিরাজকে খুব ভালোবাসি কিন্তু বলার সুযোগ হয়নি আজ বলে দিলাম।
আজ সেই মেয়েটির বিয়ে!
যার কোন পরিচয় ছিলোনা । একটাই পরিচয় ছিলো "সে একজন পাগলি" ছিলোনা কোন অবিভাবক বা আত্মীয় স্বজন। অথচ আজকের এই খুশির দিনে তাদের বিয়েতে শুভাকাঙ্ক্ষী মহলের কোন অভাব নেই। সকলেই পরম আনন্দে নিজের আত্মীয় মনে করে উপহার সামগ্রী নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন তাদের বিয়ে উপভোগ করতে।
আজকের এই দিনে সত্যিকার অর্থে ফাতিমা একজন ভালো মনের (স্বামী) অবিভাবক পেলো এবং মিরাজও খোদার দেয়া উপহার মনের মতো একজন স্ত্রী পেলো। আল্লাহপাক তাদের দাম্পত্য জীবন সুখ শান্তিময় করে নেক হায়াত দান করুন। #আমিন
এই ঘটনায় কি প্রতীয়মান হয় না, বর্তমান সমাজে মিরাজের মতো লাখো মিরাজ এখনও বেঁচে আছেন বলে আমরা গর্বিত জাতি। আর যাঁরা মানুষিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়েকে যৌন নির্যাতন করে গর্ভবতী করেছেন এরাই সমাজে মানুষ রুপি অমানুষ। আল্লাহ এদেরকে কঠিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন নিশ্চয়ই।।

গল্প সুত্র:- নাগরিক টিভির রিপোর্ট অবলম্বনে বাস্তব কাহিনি। 

 


এ জাতীয় আরো খবর