শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

শ্রমের ঘামে লেখা দিন

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৫-০১ ০৯:১৯:২৮

ভোর হওয়ার আগেই
ঘড়ির কাঁটা যখন অন্ধকারে আটকে থাকে,
তখনই বেরিয়ে পড়ে মানুষ-
হাতে না থাকে কোনো পতাকা,
তবু তার কাঁধেই টিকে থাকে সভ্যতার ভার।

এই শহরের ইটগুলো কথা বলে না,
কিন্তু জানে-
কার হাতের ছোঁয়ায় তারা দাঁড়িয়ে আছে,
কার পিঠের ঘামে উঠেছে এই উঁচু ভবন,
কার নিঃশ্বাসে চলে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা।

মে মাসের প্রথম দিনটা
ক্যালেন্ডারের একটুকরো লাল রঙ নয়,
এটা একটা প্রশ্ন-
কেন এখনো মজুরি সমান হয় না?
কেন এখনো শ্রমিকের কণ্ঠস্বর
দেয়ালের ভেতর আটকে থাকে?

যে মানুষটা রোদে পুড়ে কালো হয়ে যায়,
তার নাম হয় না ইতিহাসে,
যে নারীটা কারখানার ভেতর
ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে-
তার ক্লান্তি মাপার কোনো যন্ত্র নেই।

তবুও তারা থামে না,
কারণ থেমে গেলে চুলা জ্বলে না,
থেমে গেলে শিশুর চোখে স্বপ্ন থাকে না,
থেমে গেলে পৃথিবীটা অচল হয়ে যায়।

মে দিবস মানে শুধু মিছিল নয়,
শুধু স্লোগান নয়,
এটা একটা প্রতিশ্রুতি-
ন্যায্য অধিকার,
নিরাপদ কর্মক্ষেত্র,
সম্মানের জীবন।

কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়-
এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব?
শ্রমিকের হাত কি এখনো শৃঙ্খলে বাঁধা,
নাকি সে সত্যিই মুক্ত?

আমি দেখি-
একজন রিকশাচালক ঘাম মুছছে,
একজন নির্মাণ শ্রমিক আকাশ ছুঁতে গিয়ে
নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে,
একজন গার্মেন্টস কর্মী
স্বপ্ন গুনছে সুতোয় সুতোয়।

তাদের চোখে যে আগুন,
তা নিভে যায় না সহজে-
কারণ এই আগুনই পরিবর্তনের শক্তি,
এই আগুনই ন্যায়ের দাবি।

মে দিবস তাই শুধু স্মৃতি নয়,
এটা চলমান সংগ্রাম-
প্রতিটি ঘামের ফোঁটা
যেন একদিন মর্যাদায় রূপ নেয়,
প্রতিটি শ্রম যেন পায় তার ন্যায্য মূল্য।

এই দিনটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-
যে হাতগুলো কাজ করে,
সেই হাতগুলোই ভবিষ্যৎ গড়ে।

তাই আজকের দিনে
শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানো মানে
শুধু সমবেদনা নয়-
এটা দায়িত্ব,
এটা মানবতার দাবি,
এটা আগামী পৃথিবীর ভিত্তি।


এ জাতীয় আরো খবর