এক.
বিক্ষুব্ধ বাতাসে কী জেল্লা ভাসে...
ঘর থেকে বেরুবে নন্দলাল!
ব্লাকবেরি, স্ট্রবেরি ঠেকাবে কী করে যৌবন
টানটান ত্বক জলপাইগুণের অলিভয়েল ছাড়াই
কী সুন্দর ঠেকান দেয়া; টসটসে মধুশালায় মেলে
জমকালো মধুশ্রী, আহা এমন সুন্দর রসায়ন
আগে দেখেনিকো নন্দলাল!
তার ঠোঁট জুড়ে গন্ধরাজের গন্ধ, মধুশ্রী তবে কার? আহা এমন সুশীল পয়মাল ;
কবে পেয়েছে ছোঁয়া দেবকাঞ্চন কিংবা অশোক রাজের!
নন্দলালকে কেউ কেউ ভাবে বকফুল
কিন্তু ব্যাটা বোকার হদ্দ চিরকাল!
দুই.
একবার কি হলো, এমন প্রশ্ন সমতার বাজারে ঘুরপাক খেতে থাকে, কী হলো..! দেখা গেলো দুদিনবাদে;
ওম আর জম পাশাপাশি শুয়ে--- কী দারুণ মিল তাদের
মুখ বিপরীতমুখি! কিন্তু দুজনের মুখ শিঙাড়ায়..!
মানেটার অর্থ কী দাঁড়ায়!
একজনের বোঝা আরেকজনের কাঁধে
জম বাবু একদিন উধাও হয়ে গেলো;
ওম বাবুও পলাতক হয়ে গেলো পুলিশের ভয়ে
নন্দলাল এসব দেখে বোকা বনে যায়..!
একদিন সকলে মিলেই তো এই পাড়ায় আলো-বাতাসে
বড়ো হয়েছে, এককাপ চা চারজনের পেটে গেছে
বিড়ির পাতা আসার আগে হুঁকোয় গড়গড় টান মেরেছে
শান্তির ধোয়া সেদিন উড়েছিলো আকাশে---
তবে আজ এমন কেনো, সবাই ভাগ হয়ে গেলো
বিভাগ বন্টনের মতো যার যার ক্লাসে উঠে পরলো!
এখন শীতকালে শীতল জল, মধ্যরাতের গরমস্নান না গাঁও গেরামের ক্যানালে গড়িয়ে পড়ে, না শহুরে ড্রেনে
এখন ক্যাডমিয়াম চালের ভাতে পেট ফুলে ওঠে, যেনো তাহা সুখেল মেদের ভুঁড়ি..!
হায়রে বাউরী বাতাস চারপাশ খেলা করে---
শুয়ে-বসে শুধু গর্জন, তর্জন, চিৎকার চেঁচামেচি,
কতিপয় মুখের উল্লম্ফন, বোকাদের বৃথা আস্ফালন:
জলবায়ুও আজ বিপরীতমুখিন, এমন উন্নাসিকতা চলবে কতোদিন?
কার কাছে আছে এর সমাধান?
তাইতো সব ছেড়েছুঁড়ে ঘরমুখো নন্দলাল গরমকালের মতো কপাট বন্ধ করে থাকে আজকাল,
যদি শীত ঢুকে টালায় টলকায়, তাইতো সবার মতো সেও সাবধান !