বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গোল্ড মেডেল বৃত্তি-২০২৩খ্রিঃনীতিমালা পরিপন্থি

  • সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ
  • ২০২৩-১১-০৩ ১৬:১৩:৫৮
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ 'বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গোল্ড মেডেল বৃত্তি-২০২৩খ্রিঃ' জেলা শাখা, টাঙ্গাইল নামে শিক্ষক নামধারী একটি চক্র বৃত্তি প্রদানের নামে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নাম ভাঙিয়ে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করে আসছে। যার সঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার কোন সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে গত ৮ আগস্ট, ২০২৩খ্রিঃ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড আর কোচিং নির্ভর পড়াশোনা বন্ধ করতে এবং প্রতিদিন ক্লাসেই মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে এবছর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানে, বাংলাদেশ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কতিপয় বিতর্কিত সরকার বিরোধী সরকারি শিক্ষক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বৃত্তি পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজে তারা সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা'র নাম ব্যবহার করে 'বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা'কে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কোন কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা সমর্থন করে না। তাছাড়া, পুরোপুরি বানিজ্যিক/ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার আশায় যে কোন ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিরোধপূর্ণ। সরকারি চাকুরীজীবি হিসেবে সরকারের একজন বেতনভুক্ত শিক্ষক হয়ে এবং শিক্ষক সমিতির নাম ভাঙিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে মনস্তাত্ত্বিক(ক্ষেত্র বিশেষ বাধধ্যতামূলক) চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষা ফি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও উপার্জনের ধান্ধাকারী এসকল অর্থ লিপ্সু শিক্ষক একইসঙ্গে সরকার ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। উল্লেখ্য যে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মার্কেট ভবন অবৈধভাবে লীজ প্রদানে জড়িত থাকাসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃত্তি ফর্মে স্বাক্ষর প্রদানকারী বিতর্কিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জেলার শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন ও বিক্ষোভ জানিয়ে আসছে। আরো উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ১৭ (১) নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘এই আইনের অন্য বিধান অনুসারে, কোনও সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনও ব্যবসায় জড়াতে পারবেন না। অথবা দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনও কাজ কিংবা চাকরি নিতে পারবেন না।’ অথচ, এই বিতর্কিত শিক্ষকগণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নিজ দায়িত্ব ও সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বৃত্তি প্রদানের নাম করে অর্থ উপার্জনের ব্যবসায়িক ধান্ধায় সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। এই অবৈধ বৃত্তি আয়োজন প্রতিহত করা হবে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষক সংগঠন 'বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি'র নাম ভাঙিয়ে এহেন অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা এসকল অর্থ লোভী ধান্ধাবাজদের সম্পর্কে সকলকে সাবধান ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

এ জাতীয় আরো খবর