"ভুঁড়ি হলো একজনের শরীরে বেড়ে ওঠা আরেকজনের মাংস। কোথাও কেউ না কেউ না খেয়ে থাকে বলেই জন্ম হয় ভুঁড়ির। তবে পেটের উপরে যা গজায়, তা আমাদের আসল ভুঁড়ি নয়। আসল ভুঁড়ি অন্যখানে।
ধরা যাক, গ্রামে সৈয়দ আব্দুল আলির একটি বাড়ি আছে। টাকা হওয়ার পর তিনি ঢাকায় আরেকটি নতুন বাড়ি করলেন। এই নতুন বাড়িটিই তার আসল ভুঁড়ি। এরকম আসল ভুঁড়ি সৈয়দ আব্দুল আলির আরও অনেক থাকতে পারে। পকেটে যে টাকা-সমৃদ্ধ ভারী ডেবিট কার্ডটি নিয়ে তিনি ঘোরেন, সেটিও তার একটি আসল ভুঁড়ি।
ইদানীং নারীরাও ভুঁড়ির দিকে ঝুঁকছে। বিয়ে করার সময় তারা পাত্রের ভুঁড়ির ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে। যার ভুঁড়ি নেই, তাকে তারা বিয়ে করছে না। পড়াশোনা জানা বেকার ছেলেরা একটি ভালো ভুঁড়ির অভাবে বিয়ের স্বাদ নিতে পারছে না। এ জন্য তরুণেরা এখন রাত-দিন প্রার্থনা করছে- হে আল্লাহ্, আমাদেরকে একটি বিসিএস ভুঁড়ি দাও।
নতুন চাকরিতে ঢোকা এক ছেলেকে চিনি, যার বিয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে পাত্রীর ভুঁড়ির দাবি মেটাতে গিয়ে। পাত্রীর দাবি, নগদ দশ লাখ টাকা কাবিন না দিলে সে তার স্বজনদের কাছে মুখ দেখাতে পারবে না। পৃথিবীতে মুখ দেখাতে যে এতো টাকা লাগে, তা বাংলাদেশে না জন্মালে আমার জানা হতো না।"