শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি, মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৬-১১-০৭ ১০:২১:২৭
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রশাসনে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর নিজের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বে ইতোমধ্যে বড় ধরনের রদবদল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কাউকে দায়িত্ব থেকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘হ্যাঁ, আছে। অল্প কয়েকজনকে নিয়ে এমন পরিকল্পনা রয়েছে।’
তবে কাদের দায়িত্ব থেকে সরানো হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রিসভাকে ভালোবাসি। আমার মনে হয়, তারা ভালো কাজ করছেন। তবে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন মিলার।
এর মধ্য দিয়ে সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মিলার। ট্রাম্পের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াইলস এখন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প ওয়াইলসের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন। তাঁকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে নতুন দায়িত্বে যাওয়ার বিষয়টি জানান তিনি। ওয়াইলসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিদায়ের কথা নিশ্চিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন রাজনীতিতে স্টিফেন মিলার দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের মতো কঠোর নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী তিনি। ফলে চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁর নিয়োগকে প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানে আরও কঠোরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ট্রাম্প প্রশাসনকে আগামী দিনগুলোতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হবে। এতে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরাজয়ের ধাক্কা সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে রদবদল সেই প্রক্রিয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ। তবে মন্ত্রিসভার আর কোন কোন সদস্য পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউস।

তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ,আনাদোলু এজেন্সি।

ট্রাম্পমন্ত্রিসভাররদবদল,যুক্তরাষ্ট্রেরমধ্যবর্তী নির্বাচন,DonaldTrump


এ জাতীয় আরো খবর