বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে,বড় ধাক্কা ট্রাম্পের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১১-০৪ ২২:০৪:৫৭
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ-কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরাজিত করে এই জয় পেয়েছে দলটি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, আইন প্রণয়নের উদ্যোগে বাধা এবং বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্পের বক্তব্যেও ছিল তুলনামূলক নমনীয় সুর। অতীতে নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এবার তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ফল মেনে নিতে তিনি ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলটি ভালো করেছে এবং কঠোর লড়াই করেছে।
তবে নির্বাচনে নিজ দলের বিপর্যয়ের দায় নিজের ওপর নিতে রাজি নন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, এই ফলাফলকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখছেন না। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করলেও সামরিক অভিযান পরিচালনার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে প্রশাসনের বাজেট, আইন প্রণয়ন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সম্মতি বা সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে,ডেমোক্র্যাটদের সামনে এখন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কংগ্রেসের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ট্রাম্প প্রশাসন ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত বাড়বে, নাকি কোনো কোনো বিষয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হবে-তা এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ ও নীতি বাস্তবায়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারণ করল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন,ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্প প্রশাসন


এ জাতীয় আরো খবর