বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ছয় পদক্ষেপে বছরে বাঁচতে পারে ১৬ লাখ প্রাণ: ডব্লিউএইচও

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১১-০৪ ২২:১০:৫৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ছয়টি কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের সুফল এবং সরকারি রাজস্বে আরও ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুবিধা আসতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু, জলবায়ু সহনশীল নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর উন্নয়ন, হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, রান্না ও ঘর গরম রাখার কাজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার এবং জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে কার্যকর রাজস্বনীতি গ্রহণ।
ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী,এসব পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ লাখ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এড়ানো যেতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে গড়ে ২৪ ডলারের সুফল পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা সবচেয়ে লাভজনক উদ্যোগগুলোর একটি। এ খাতে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে সর্বোচ্চ ৮৩৫ ডলারের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতি গ্রহণকে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও রাজস্ব সুবিধা দিতে সক্ষম পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। অকার্যকর ভর্তুকি কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর যথাযথ কর আরোপের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সুফল এবং সরকারি রাজস্বে ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সুবিধা আসতে পারে।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, জলবায়ু সংকট মূলত স্বাস্থ্য সংকট। তবে এ সংকটের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই বর্তমানে বিদ্যমান কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচবে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো বেশি উপকৃত হবে।
তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, গবেষণার হিসাব উচ্চাভিলাষী বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিরূপণে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাস্তবে প্রত্যাশিত সুফল অর্জন নির্ভর করবে দেশগুলোর নীতি গ্রহণ, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।
কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে ডব্লিউএইচও জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে একই সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ,দূষণ,নিরাপদ পানির সংকট ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের প্রভাব বাড়তে থাকায় ডব্লিউএইচওর এই প্রতিবেদন নতুন করে স্বাস্থ্য ও জলবায়ু নীতির সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য, ডব্লিউএইচও প্রতিবেদন, কপ-৩১

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল প্রতিবেদন ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।


এ জাতীয় আরো খবর