শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

মহেশখালীর চার ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা,চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বিভ্রান্তিকর প্রচার নয়

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-১০-১৬ ১৮:২৩:৩৬

মহেশখালী(কক্সবাজার)
মহেশখালীর চার ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা,চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই বিভ্রান্তিকর প্রচার নয়!পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র;নিয়োগের প্রক্রিয়া ও কার্যকর আদেশ এক নয়,সরকারি  নথি যাচাইয়ের তাগিদ, একটি দাপ্তরিক পত্র মানেই চূড়ান্ত  সরকারি  সিদ্ধান্ত নয় এই মৌলিক পার্থক্য   উপেক্ষা   করে   প্রশাসক   নিয়োগ   কিংবা জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের খবর প্রচার করা হলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। 
মহেশখালী   উপজেলার    শাপলাপুর,     মাতারবাড়ী, কুতুবজোম ও হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ  শেষ  হওয়ায়  প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নিতে  সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের  কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে  পত্র  পাঠানোর তথ্যকে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন  হওয়ার  চূড়ান্ত  প্রমাণ  হিসেবে  দেখার সুযোগ নেই;  এ ক্ষেত্রে  কার্যকর  সরকারি  আদেশ  ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  সিদ্ধান্ত  যাচাই  করাই  গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক  নথিতে  চার   ইউনিয়ন  পরিষদের  প্রশাসক নিয়োগের  বিষয়ে  প্রয়োজনীয়  ব্যবস্থা  গ্রহণের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।  কিন্তু  নিয়োগের  চূড়ান্ত  আদেশ  জারি হয়েছে কি না, কারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কিংবা বর্তমান  জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে কোনো পৃথক আদেশ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে  নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তমূলক  বক্তব্য  প্রচার  করা  দায়িত্বশীল হবে না।
পত্র  পাঠানো  আর নিয়োগ  কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়, প্রশাসনিক  কার্যক্রমে প্রস্তাব বা সুপারিশ পাঠানো, সংশ্লিষ্ট   কর্তৃপক্ষের   অনুমোদন   এবং  চূড়ান্ত নিয়োগ আদেশ জারি  প্রতিটি  ধাপের  পৃথক  তাৎপর্য রয়েছে। ফলে কোনো দপ্তর থেকে প্রশাসক নিয়োগের জন্য পত্র পাঠানো  হলে তা  থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে   বলে  সিদ্ধান্তে পৌঁছানো   যায় না। একইভাবে, প্রশাসক  নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদের   চেয়ারম্যান   বা   সদস্যদের   অপসারণের সিদ্ধান্ত   নেওয়া   এক   বিষয় নয়।  অপসারণের দাবি করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী জারি করা প্রযোজ্য সরকারি আদেশের প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
চার ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম ঘিরে গুরুত্বঃ-
শাপলাপুর, মাতারবাড়ী, কুতুবজোম  ও   হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব  পরিষদের  মাধ্যমে নাগরিক সেবা, বিভিন্ন সনদ প্রদান,জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন,উন্নয়ন কার্যক্রম এবং  সরকারি   সহায়তা  বিতরণসহ  নানা  কার্যক্রম পরিচালিত হয়।  ফলে  প্রশাসনিক  দায়িত্বে পরিবর্তন এলে  তার   প্রভাব  স্থানীয় সেবা ব্যবস্থাপনায় পড়তে পারে। এ কারণে  প্রশাসক   নিয়োগের  বিষয়ে প্রকৃত অবস্থা  জানা  স্থানীয়  বাসিন্দাদের  জন্য  গুরুত্বপূর্ণ। 
তবে  সম্ভাব্য  প্রশাসনিক  পরিবর্তন  নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে যাচাইহীন তথ্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হলে নাগরিকদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সরকারি আদেশ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বঃ-
এ ধরনের  বিষয়ে  সংবাদ  প্রকাশের  আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল পত্র, স্মারক নম্বর, তারিখ, প্রাপক এবং সর্বশেষ  সিদ্ধান্ত  যাচাই  করা  প্রয়োজন।  প্রশাসক নিয়োগ  কার্যকর  হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়োগ   আদেশ  বা   প্রযোজ্য  সরকারি  প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনা   করা   জরুরি।   পাশাপাশি     সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া হলে বিষয়টির প্রকৃত   অবস্থান   আরও   স্পষ্ট   হবে।  বিশেষ করে সামাজিক   যোগাযোগমাধ্যমে  কোনো  তথ্য  ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে প্রচার না করাই   দায়িত্বশীলতার   পরিচয়।   তথ্যের  আংশিক উপস্থাপন বা ভুলব্যাখ্যা একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
সিদ্ধান্তের আগে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরিঃ-
মহেশখালী উপজেলা চার ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের  জন্য  পত্র  পাঠানোর  বিষয়টি  প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগ আদেশ জারি ও কার্যকর হওয়ার তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ    সম্পন্ন   হয়েছে   কিংবা    জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ  করা   হয়েছে  এমন  দাবি করা উচিত নয়।
প্রশাসনিক   প্রক্রিয়া   নিয়ে   সংবাদ  প্রকাশের ক্ষেত্রে অনুমান নয়, প্রমাণই  হোক  মূল ভিত্তি।  সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট   কর্তৃপক্ষের   বক্তব্য  এবং কার্যকর আদেশের ভিত্তিতে  তথ্য  উপস্থাপন  করা গেলে জনমনে বিভ্রান্তি কমবে  এবং  স্থানীয়  সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে নাগরিক দের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।


এ জাতীয় আরো খবর