১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ, তবু বেহাল কসবা-আখাউড়া সড়ক; দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
- জাহাঙ্গীর আলম
-
২০২৬-১০-১৩ ১৯:২৫:৪৭
- Print
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের জুনে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। উল্টো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার হাজারো মানুষ।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা চললেও সংস্কারকাজের গতি আশানুরূপ নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় চালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সেগুলোর গভীরতা বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
গাড়ি চালাতে গিয়ে বাড়ছে খরচ
সিএনজিচালক শফিক বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গাড়ি চালাতে হয়। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্তে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। মেরামতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। যাত্রীদের নিয়েও ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে আমাদের কষ্ট অনেকটা কমবে।’
নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী লোকমান বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝা যায় না কতটা গভীর। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে। দ্রুত কাজ শেষ করে আমাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই।’
১৩ কোটি টাকার প্রকল্প, মেয়াদ বাড়ল আট মাস
কসবা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থা এবং উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় সড়কটির ১১ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের কাজ পেয়েছে কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক।
২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট মাস পর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেসব স্থানে কাজ চলছে, সেখানেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। কোথাও কোথাও নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বৃষ্টির কারণে দেরি, দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের
কাজের বিলম্বের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খায়রুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।’
অন্যদিকে, কাজের ধীরগতি ও সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, কাজের ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি তদারকি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি চলমান কাজের মান নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
১৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।