ফেরিওয়ালা ভেমরুলের সহজ-সরল জীবন: আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা
- জামিয়ার রহমান
-
২০২৬-১০-১৩ ১৭:৪৫:৩১
- Print
নীলফামারী
কঠোর পরিশ্রম আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা এক চিলতে নিষ্পাপ হাসি—এই নিয়েই কেটে যায় তার সারাদিন। তিনি মোঃ রফিকুল ইসলাম। তবে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ছোট-বড় সবার কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও ভালোবাসার এক নাম, ‘ভেমরুল’।
সারাদিন জলঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে, রাস্তাঘাটে, মেঠোপথে আর হাট-বাজারে ফেরি করে বাদাম ও বুট বিক্রি করাই তার পেশা। জীবনধারণের জন্য প্রতিদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তাকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হয়। কিন্তু এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তার মধ্যে নেই কোনো ক্লান্তি, নেই জীবনের প্রতি কোনো অভিযোগ বা আক্ষেপ। কাজের সময় চোখে রঙিন সানগ্লাস পরতে ভালোবাসেন তিনি, যা তার চিরচেনা রূপকে করে তুলেছে আরও চমত্কার ও আনন্দময়।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছেও রফিকুল ইসলাম একজন বিশেষ মানুষ। অত্যন্ত সহজ-সরল এবং অমায়িক স্বভাবের এই মানুষটি সুযোগ পেলেই থানায় ছুটে আসেন তার প্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে। সম্প্রতি জলঢাকা থানার সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ওসির সাথে তোলা তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও বস্তুবাদী দুনিয়ায় যেখানে মানুষ সামান্য কিছু না পেলেই হতাশায় ভেঙে পড়ে কিংবা অসন্তোষ প্রকাশ করে, সেখানে ভেমরুলের মতো মানুষেরা আমাদের জীবনের আসল অর্থ শেখায়। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও মুখে হাসি ধরে রেখে সততার সাথে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার যে অনন্য শিক্ষা তিনি দিচ্ছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষেরই এই সরল ও নির্লোভ মানুষদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।