৮৯ হাজার ৩৬৪ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ, প্রথম ধাপে ১৫ জনকে প্রশিক্ষণ ও ট্যাব বিতরণ!
মহেশখালী (কক্সবাজার)
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও তথ্য নির্ভর করার লক্ষ্যে মহেশখালী উপজেলায় শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ডিজিটাল খানা জরিপ।
উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮৯ হাজার ৩৬৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার নির্বাচন করা হয়েছে।প্রথম ধাপে ছোট মহেশখালী ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নির্ধারিত এলাকার জন্য ১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা জাহেদুল
হক নাহিদ,মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক ইকবাল ও বিএনপি নেতা কাইছারুল হক মনি। এ সময় তথ্যসংগ্রহকারী,বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আট ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জরিপঃ-
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৫ জন এবং পরিবারের সংখ্যা ৮৯ হাজার ৩৬৪টি। প্রতিটি পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত তথ্য ভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।এ কার্যক্রমের জন্য রিজার্ভসহ মোট ১৩৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১৩ জন সুপারভাইজার নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ১১ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও একজন সুপারভাইজার এবং বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দুজন তথ্য সংগ্রহকারী ও একজন সুপারভাইজারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট নির্বাচিত কর্মীদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস বরাদ্দ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ধাপে ধাপে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ন ও পৌরসভায়ও জরিপ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
জরিপের তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উপকারভোগী শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি হলে পরিবারগুলোর প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন এবং সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে।তবে জরিপে তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া আর ফ্যামিলি কার্ড বা আর্থিক ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া এক বিষয় নয়। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করেই উপকারভোগী নির্বাচন করতে হবে।
জাতীয় পর্যায়েও ১২ অক্টোবর থেকে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিই বড় চ্যালেঞ্জ এ ধরনের বৃহৎ জরিপে তথ্যের নির্ভুলতা, একই পরিবারের তথ্য একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত না হওয়া, প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং তথ্য সংগ্রহে পক্ষপাত এড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্য, প্রভাব কিংবা অনিয়মের কারণে বাদ না পড়ে,সে জন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ কারীদের পরিচয় যাচাই,ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংগৃহীত তথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। তথ্য সংগ্রহের নামে কোনো ব্যক্তি অর্থ দাবি করলে বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও জনসচেতনতা থাকা প্রয়োজন।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে,নির্বাচিত অবশিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।কর্মসূচিটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
প্রত্যাশা ও নজরদারির প্রয়োজন মহেশখালীর ৮৯ হাজারের বেশি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্ম সূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার গড়ে উঠতে পারে। তবে এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে কতটা নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তথ্য যাচাই কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং যোগ্য পরিবারগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত হচ্ছে কি-না তার ওপর। তাই শুধু জরিপ শুরু করাই নয়, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।