মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

গোপনে করা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলো চতুর্থ শ্রেনীর চার কর্মচারীকে

  • অনন্ত সেলিম
  • ২০২৩-০৯-২৭ ২৩:৪০:১৮

জেলা প্রতিনিধি বগুড়াঃ 
বগুড়ায় স্থগিত কমিটির অর্থাৎ গোপনে করা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলো চতুর্থ শ্রেনীর ৪ (চার) জন কর্মচারীকে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দক্ষিণ পাড় তেখর উচ্চ বিদ্যালয় গোপনে কমিটি ও কর্মচারি নিয়োগ করার খবর পাওয়া গেছে।স্কুলের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে  উক্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান নাম পরিচয়ে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি। উক্ত কমিটির সিংহভাগ সদস্যরা জানেন না যে তাদেরকে কমিটির সদস্য বানিয়ে চালানো হচ্ছে স্কুলের সকল কার্যক্রম। 

No description available.
গত ১২-০৫-২০২২ তারিখের উক্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন স্বপন যদিও উক্ত কমিটির বিষয়ে ইতিমধ্যে এড়িয়ে চলেছেন প্রধান শিক্ষক সন্তোস কুমার দেবনাথ। এলাকাবাসীর চেষ্টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারা যায় পুনরায় আলমগীর হোসেন স্বপনকে সভাপতি করা হয়েছে।  তৎক্ষনাৎ উক্ত কমিটির ০৮ জন সদস্য ২২-০৫-২০২২ ইং তারিখে  লিখিত অভিযোগ দিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এর একটি তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য শাজাহানপুর  উপজেলার ইউএনও বরাবর পাঠানো হয়। বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আইনকে অমান্য করেই গোপনে চারজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ দেন এই কমিটি । লোকবলের সংকট দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার বানিজ্য সংঘটিত করতে নিয়োগ দেওয়া হয় স্বামী-স্ত্রীকেও। অবস্থা বেগতিক ভেবে প্রধান শিক্ষক সহ কতিপয় কর্মচারী (নতুন) স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন দীর্ঘ দিন। এমন হীন কাজের পরিপেক্ষিতে ০৩-০৬-২০২৩ রাজশাহীর পরীক্ষক ও মহাপরিদর্শক এর নিকট কমিটির ০৮ আটজন সদস্য পদত্যাগ করেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে চান কিভাবে আমরা কমিটির সদস্য হিসেবে গন্য হলাম! অবশ্য জানতে পারেন যে তাহাদের প্রত্যেকের স্বাক্ষর জাল করে তাদের সদস্য করা হয়েছে। সকল তথ্যের ভিত্তিতে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও এই নতুন এডহক কমিটির বিষয়য়দী অস্বীকার করেন স্কুলের জনৈক শিক্ষক। অপরদিকে নতুনভাবে গঠিত এডহক কমিটির সদস্যরা উপ পরিচালক রাজশাহীর বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। গত ১৭-০৯-২০২৩ তারিখে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।স্কুলের বারান্দায় চৌকি খাট স্থাপন,  ক্লাসরুমে রান্নার চুলা, বাথরুমে নোংরা ও পোকামাকড়ের বসবাস,বৈদ্যুতিক পাখাগুলো ক্লান্তিতে চুপচাপ এ যেন খোঁজ খবরহীন কোন পাতালপুরী। প্রধান শিক্ষক সভাপতির অনুমতিতে ছুটিতে। মোবাইল ফোনটাও বন্ধ। সভাপতির মোবাইল  নং প্রদানে ব্যর্থ বর্তমান দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক। পরে সভাপতির বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে উনি ইন্ডিয়া গেছেন।  

No description available.
এ বিষয়ে স্কুলের আরো কর্মচারী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলে নতুন এডহক কমিটির বিষয় তারা কিছুই জানেন বলে জানান। তারা এমন কি আগের কমিটির 
মেয়াদ এখলো ৫-৭ মাস আছে বলে জানান স্কুলের গনিত শিক্ষক।খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই স্কুলে দীর্ঘ দিন একই কমিটি থাকায় কিছু  জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, যে কারনে স্কুলের উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে।অবৈধভাবে পরিচালিত কমিটির সদস্য কর্তৃক নিয়োগকৃতদের শাস্তি প্রদান, সেই সংঙ্গে এই নিয়োগের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী এলাকাবাসীর।

 


এ জাতীয় আরো খবর