কে হচ্ছেন মতিন খসরুর উত্তরসূরি?
- নিউজ ডেস্ক:
-
২০২১-০৫-২৪ ০৮:৩৭:৩৫
- Print
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বইছে উপ নির্বাচনে হাওয়া। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। আর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী হতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অন্তত ২ ডজন আওয়ামী লীগ নেতা। এর মধ্যে আঁটঘাট বেঁধে মাঠে আছেন প্রায় ১০ নেতা। প্রয়াত নেতার কবর জিয়ারত, শোকসভা, মিলাদ মাহফিল, ত্রাণ বিতরণ, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নানা আয়োজনে সম্ভাব্য প্রার্থীতার আগাম ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন তারা। সেই সাথে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও।
এ আসন থেকে আবদুল মতিন খসরু নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ৫ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন দলটির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য। তাই স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠেছেন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনে কে হচ্ছেন একসময়ে দলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর উত্তরসূরী? শূন্য আসনটিতে কে পাবেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন এ নিয়ে চলছে নানা মুখরোচক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কুমিল্লা-৫ আসনের পাঁচবারের সাবেক এমপি ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ২২ এপ্রিল তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে জানানো হয় ২৪ মে এ আসনের উপ নির্বাচনের তসফিল ঘোষণা করা হবে। আর জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাদকতা রয়েছে।
এদিকে মতিন খসরুর মৃত্যুর পরপরই এ আসনটিতে তৎপরতা চালাতে থাকেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সময় যতো বাড়তে থাকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকাটাও ততো দীর্ঘ হতে থাকে। আর শেষ পর্যন্ত এ তালিকায় যোগ হয়েছে অন্তত ২৪ জনের নাম। এর মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত খসরুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছাড়াও তার স্ত্রী-পুত্র ও ভাইয়ের নামও। তবে সবার মুখেই শোনা যাচ্ছে প্রায় একই কথা। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। ‘নৌকা যার-আমরা তার’।
এ প্রসঙ্গে প্রয়াত এমপির স্ত্রী সেলিনা সোবহান খসরু বলেন, আমি এলাকার মানুষের সাথে কথা বলেছি, নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছি। তারা আমাকে প্রার্থী হিসেবে চায়। এখন দল যদি মনোনয়ন দেয় আমি নির্বাচন করব। এ আসনের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখব।
এ আসনের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী ও আবদুল মতিন খসরুর দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইব। খসরু ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। তার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পাশে ছিলাম। দল যদি আমাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তবে অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বুড়িচং সোনার বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন,
আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রাধনামন্ত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। এর আগে আমি ৬ বার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। কিন্তু নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মাথা পেতে নিয়েছি। এবারও মনোনয়ন চাইব। আশা রাখি দলের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে খসরু ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার সুযোগ দিবেন। তারপরও দল যদি অন্য কাউকে সিলেক্ট করে- আমি তার পক্ষেই কাজ করবো।
এদিকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় মাঠ গরম থাকলেও একেবারেই নীরব বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দলটির নেতা-কর্মীরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেও মাঠে আছেন তাদের এক নেতা। তিনি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাবেক সহ সভাপতি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এ এস এম আলাউদ্দিন ভূইয়া। এর আগে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আলাউদ্দিন ভূইয়া।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন ভূইয়া বলেন, এখানকার জনগণ আমাকে অভিভাবক হিসেবে পেতে চায়। গেলো কিছুদিনে আমি দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছি। তারা আমাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এখন আমি বিষয়টি বিবেচনা করবো। যদি ফেয়ার ইলেকশন হয়; সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ থাকে তাহলে নির্বাচনে যাবো।