একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের দিন নয়। এটি তার ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানোর দিন, আত্মত্যাগের হিসাব নেওয়ার দিন, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণের দিন এবং ভবিষ্যতের প্রতি নতুন অঙ্গীকার করার দিন।
এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ধারক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী, সমর্থক ও গণতন্ত্রকামী মানুষকে, যাঁদের ত্যাগ, শ্রম, সংগ্রাম এবং আত্মনিবেদন এই দলটিকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
বিএনপির জন্ম: সংকটের সময়ে নতুন রাজনৈতিক দর্শনের আবির্ভাব;
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্ম হয়েছিল দেশের ইতিহাসের এক জটিল ও সংকটপূর্ণ সময়ে।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জাতীয় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। মানুষের সামনে তখন ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজন ছিল এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের, যা স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়, সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীল অর্থনীতি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন পথ দেখাবে।
এই প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র দর্শন নিয়ে আবির্ভূত হন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সার্বভৌম চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা সুসংহত হয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে জনগণের সৃজনশীল শক্তিকে মুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল সরকারের ওপর নির্ভর করতে পারে না। কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হবে।
এই দর্শন থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে উচ্চারিত হয়েছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা।
এই দর্শনের মূল শক্তি ছিল বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়ের প্রতি অঙ্গীকার।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: যুদ্ধের ময়দান থেকে রাষ্ট্র নির্মাণের সংগ্রামে;
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর সাহসী ভূমিকা এবং স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর অবস্থান তাঁকে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন সময়েও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশকে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেওয়া।
তিনি দেশের কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং উৎপাদনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জনগণকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তিনি গ্রাম ও শহরের মধ্যে উন্নয়নের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
খাল খনন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বনির্ভরতার ধারণা এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অধিকতর উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক করার প্রচেষ্টা জোরদার হয়। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ, কৃষি, শিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি আধুনিক রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না, এই ধারণা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তিনি একটি সক্রিয় ও বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করেন।
আজ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নানা আলোচনা, বিতর্ক ও মূল্যায়ন থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্র নির্মাণ, জাতীয় পরিচয়, বহুদলীয় রাজনীতি এবং উৎপাদনমুখী উন্নয়নের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বেগম খালেদা জিয়া: সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও গণতন্ত্রের প্রতীক;
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপি একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়।
একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তখন দলটির সামনে ছিল নেতৃত্বের সংকট, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।
এই কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম, দৃঢ়তা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক অবস্থানে অটল থাকার ইতিহাস।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে নির্বাচনী রাজনীতি, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার নাম একটি দীর্ঘ সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকবে।
তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী গণভিত্তিক দল হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে।
তারেক রহমান: নতুন সময়ের নতুন দায়িত্ব;
আজ ইতিহাসের একটি নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিএনপি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা এবং বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের উত্তরাধিকার আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বের সামনে একটি বিশাল দায়িত্ব হিসেবে উপস্থিত।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কেবল নামের উত্তরাধিকার নয়।
একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করতে হয় নতুন সময়ের চাহিদার সঙ্গে, নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার সঙ্গে এবং ভবিষ্যতের বাস্তবতার সঙ্গে।
আজকের বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালের বাংলাদেশ নয়।
বিশ্ব বদলেছে। প্রযুক্তি বদলেছে। অর্থনীতি বদলেছে। মানুষের প্রত্যাশা বদলেছে।
আজকের তরুণ প্রজন্ম শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না। তারা কর্মসংস্থান চায়। তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন চায়। তারা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চায়। তারা নিরাপদ জীবন চায়। তারা দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা চায়। তারা ন্যায়বিচার চায়। তারা ভোটাধিকার চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে মেধা, শ্রম এবং সততার মূল্য থাকবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অতীতের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রদর্শনের সঙ্গে যুক্ত করা।
বাংলাদেশকে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, অর্থনৈতিকভাবেও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।
গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।
গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের সঙ্গে আসে বিশাল দায়িত্ব
জনগণ যখন কোনো রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন সেই দায়িত্ব কেবল ক্ষমতার অধিকার নয়।
এটি জনগণের প্রতি একটি অঙ্গীকার,প্রতিশ্রুতি,জবাবদিহিতা।
অসংখ্য মানুষের মতো আমরাও আনন্দিত যে, জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনা এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট দিয়েছে।
কিন্তু জনগণের এই ম্যান্ডেটের সঙ্গে প্রত্যাশার বোঝাও অত্যন্ত ভারী।
অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী বছরের পর বছর ত্যাগ করেছেন। কেউ সময় দিয়েছেন, কেউ শ্রম দিয়েছেন, কেউ রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষতি স্বীকার করেছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষের ভোটাধিকার থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে এবং নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত হবে।
তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছেন, যেখানে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি হবে না।
রাষ্ট্র হবে জনগণের।
আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ;
বিএনপি এমন এক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর সংকট ও দুর্বলতা বিদ্যমান।
অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের দীর্ঘদিনের হতাশা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতায় জনগণ রাতারাতি অলৌকিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করে না।
কিন্তু জনগণ পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা দেখতে চায়।
মানুষ দেখতে চায়, রাষ্ট্র সঠিক পথে হাঁটছে কি না।
মানুষ দেখতে চায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্যিকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।
মানুষ দেখতে চায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের জন্য কাজ করছে কি না।
মানুষ দেখতে চায়, আইন সবার জন্য সমান কি না।
মানুষ দেখতে চায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন সাধারণ নাগরিক ন্যায়বিচার পাচ্ছে কি না।
এটাই আজকের সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার একা একটি দেশকে পরিবর্তন করতে পারে না।
একটি রাষ্ট্র পরিচালনার সফলতা নির্ভর করে পুরো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর।
প্রত্যেক মন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, তাঁর পদটি জনগণের সেবা করার দায়িত্ব।
প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে মনে রাখতে হবে, তিনি শুধু নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিই নন, তিনি জাতির প্রতিনিধি।
প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তাকে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ।
আর প্রত্যেক দলীয় নেতা-কর্মীকে মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত সৌন্দর্য ক্ষমতার প্রদর্শনে নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির প্রত্যাশা তাই খুব স্পষ্ট।
আমরা এমন একটি সরকার দেখতে চাই, যে সরকার শক্তিশালী হবে কিন্তু জনগণের প্রতি সংবেদনশীল।
আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই, যে প্রশাসন দক্ষ হবে কিন্তু জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।
আমরা এমন একটি রাজনীতি চাই, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু শত্রুতা থাকবে না।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিরোধী মতকে দমন নয়, গণতান্ত্রিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে শান্তিপূর্ণভাবে এবং জনগণের ভোটে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার;
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার হওয়া উচিত একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক, আধুনিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের দর্শনকে নতুন সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উত্তরাধিকারকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা নির্মাণ করতে হবে।
আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ।
অতীত আমাদের শিক্ষা দেয়। বর্তমান আমাদের দায়িত্ব দেয়।
আর ভবিষ্যৎ আমাদের জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করায়।
তাই আজ প্রয়োজন ঐক্য, শৃঙ্খলা, সততা, দক্ষতা এবং দেশপ্রেম।
এই বিশেষ দিনে বিএনপির সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানাই, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিন।
রাজনীতিকে প্রতিহিংসার পথ নয়, জনগণের সেবার পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন।
ক্ষমতাকে অধিকার হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র এবং অগ্রগতিকে যারা দুর্বল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। তবে সেই সংগ্রাম হতে হবে আইন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক নীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা একটাই:
একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র।
একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র।
একটি মানবিক সরকার।
একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি।
এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
আল্লাহ বাংলাদেশকে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করুন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ হোক আরও শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।
সবার আগে বাংলাদেশ।
আল্লাহ হাফেজ।
লেখকঃ
◑সহকারী সম্পাদক,দৈনিক মাতৃছায়া
◑ব্যবস্থাপনা সম্পাদক,পাক্ষিক বার্তা প্রবাহ
◑প্রকাশক,ধানেরশীষ ডট নেট
◑সিনিয়র সহ-সভাপতি,অনলাইন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওজাব)
& জাতীয়তাবাদী অনলাইন এক্টিভিষ্ট