আমি স্বপ্ননগরীর ঠিকানাটা
হারিয়ে ফেলেছি !!
ওখানে নাকি, জ্যোৎস্না
আর মৃৎ প্রদীপের শিখা
সই পাতায় !
কোনো তাড়া নেই,
এক মুঠো জোনাকি
ওদের নিভৃত আলাপচারিতা
শুনে যায় মগ্ন হয়ে।
এপাড়ে বীরভূমের রাঙা ধুলোয়
উলঙ্গ শিশুর কোমরে
ঘুনসির স্বরব ঘোষণা !
খিদেরও বুঝি নিজস্ব এক ভাষা আছে,
যে ভাষা সভ্যতার অভিধানে
আজও অনুবাদ হয়নি !
শুকনো স্তনবৃন্ত বহায় না
কোনো পীযূষধারা !
মাতৃত্বের বুকের ভিতর
একটি নদী শুকিয়ে গেলে
তার শব্দ শোনা যায় না !
শুধু শিশুর ঠোঁটে
প্রশ্ন হয়ে থাকে পৃথিবী।
শীতঘুমে চলেযায় স্বঘোষিত বিলুপ্ত প্রজাতি !
খোলস ছেড়ে যায়
প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারে।
চাঁদের নব নব পৃথিবী পরিক্রমা
ওরা চেয়ে দেখে না !
দূরের জ্যোৎস্নার চেয়ে
খিদের অন্ধকার অনেক বেশি সত্যি।
ফুলের মতো নিষ্পাপ
সাদা এক থালা ভাত !
আর ঘুনসির ইতিকথা
জননীর রক্তাক্ত যঠোরের মতোই
ইতি টানে গদ্যে।
কিছু খিদে কবিতারও অতীত।
তবু এক মুঠো জোনাকি জ্বলে।
হয়তো সমস্ত অন্ধকারের ভিতরেও
আলোর একটি আদিম স্মৃতি বেঁচে থাকে।
আমি তাই এখনো
স্বপ্ননগরীর ঠিকানা খুঁজি !
জানি, সে কোন শহর নয়,
মানুষের ভিতরে হারিয়ে যাওয়া
এক টুকরো নির্মল ভূগোল !
মোহ, মায়া, অসপৃহার
গিট খোলে কই ?