শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬

রী তা রা য়

  • শ্রাবণের মেঘ
  • ২০২৬-০৮-১৩ ২৩:২১:০৩

শ্রাবণের মেঘ নামে—নিঃশব্দ মৃত্যুর মতো ধূসর,
নদীর কপালে আজ কে এঁকে দিল বিষণ্নতার ঘোর?
জলভেজা ঘাসে পড়ে থাকে অনন্ত পথের ক্ষত,
বৃষ্টিরা মুছে দিতে চায়—মুছে না মানুষের অতীত।
কদমের গন্ধে জেগে ওঠে কোনো বিস্মৃত দুপুর,
দূর বাঁশবনে বৃষ্টি বাজায় অদৃশ্য বিষাদের সুর;
শালিকের ডানায় লেগে থাকে মেঘের কালো ছায়া,
কে যেন হারিয়ে গেছে—তবু তার ফেরার প্রতীক্ষা।
নদী আজ ধীর, তার বুকে ডুবে আছে আকাশ,
কচুরিপানার ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকে নীল হতাশ;
শেওলা-ধরা ঘাটে বসে সন্ধ্যার ক্লান্ত পাখি,
তার চোখে কি বৃষ্টি নামে—নাকি কোনো পুরোনো আঁখি?
দূরের তালগাছগুলো দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাক প্রহরী,
তাদের শিরায় বয়ে যায় কত বর্ষার গোপন স্মৃতি;
একটি নৌকা অন্ধকারে হারিয়ে যায় ক্রমে,
তার বৈঠার শব্দ কাঁদে জলের অন্তর্গত মর্মে।
হঠাৎ বাতাস থামে—পৃথিবী হয় নিস্পন্দ, স্তব্ধ,
শুধু পাতার গভীরে কাঁপে কোনো অশ্রুসিক্ত শব্দ;
মনে হয়, বহু জন্ম আগে যে পথ হারিয়েছিলাম,
আজ সেই পথের ধারে শ্রাবণের মেঘে তাকে পেলাম।
হে শ্রাবণের মেঘ, বলো—কেন এত ফিরে আসা?
যে চলে গেছে, তারই জন্য কেন এই ভেজা বাতাস?
জীবন কি তবে কেবলই হারানোর দীর্ঘ উপাখ্যান,
নাকি বৃষ্টির অন্তরালে লুকিয়ে থাকে নতুন ভোরের গান?
রাত্রি নামে; জোনাকিরা জ্বলে—তারপর নিভে যায়,
নদী একা বহে চলে অজানা সমুদ্রের মায়ায়;
মেঘ সরে গেলে একদিন নীল হবে আকাশের মন—
তবু শ্রাবণের এই বিষণ্নতা থাকবে আমার আপন।

 


এ জাতীয় আরো খবর