সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ইরাকে এমপিসহ ৪৭ জন আটক,ওয়াশিংটন সফরের আগে কড়া বার্তা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২৮ ২১:২৫:১৩

ইরাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে একজন সংসদ সদস্যসহ ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং তেল মন্ত্রণালয়ের অন্তত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও রয়েছেন। সরকারের দাবি, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, রাজধানী বাগদাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোন এবং শহরের আরও একটি এলাকায় ভোররাতে একযোগে অভিযান চালায় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বাহিনী। গ্রিন জোনে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশি দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসস্থল অবস্থিত।
স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সাঁজোয়া যানসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে একাধিক ভবন ও আবাসিক কম্পাউন্ডে অভিযান চালাতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং রাষ্ট্রের বাইরে থাকা অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে এই অভিযানকে তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাগদাদে অবস্থানরত এক কূটনীতিকের মতে, দুর্নীতিবিরোধী এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিতেই নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য, চলমান অভিযান শুধু দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা ও ইরানি তেল পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি বৃহত্তর অভিযানের সূচনা মাত্র এবং সামনে আরও অভিযান পরিচালিত হবে।
অভিযানটি এমন সময় পরিচালিত হলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বাগদাদ সফর করছেন। তিনি নতুন ইরাকি সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা ইরাক এখন নতুন এক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরও জানিয়েছে, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রদেশেও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সাম্প্রতিক অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়, যা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরাক, দুর্নীতি, গ্রেপ্তার


এ জাতীয় আরো খবর