আজকাল বাজারে গেলে
রঙিন ফলের হাসি দেখি,
চকচকে সবজির গায়ে
অদৃশ্য এক আতঙ্ক লেগে থাকে।
যে আমটি সোনালি হয়ে ওঠে,
সে কি রোদে পেকেছে?
নাকি রাতের আঁধারে
রাসায়নিকের স্পর্শে বদলে গেছে তার মুখ?
যে দুধে শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার কথা,
সেখানে যদি মিশে যায় প্রতারণা,
তবে কেমন করে জন্ম নেবে
সুস্থ এক প্রজন্ম?
যে মাছ নদীর গল্প বলবে,
যে মাংস শক্তি দেবে শরীরে,
যদি লোভের বিষাক্ত ছায়া
তাদের রক্তে মিশে যায়-
তবে খাবার আর খাবার থাকে না,
পরিণত হয় নীরব বিপদে।
অথচ একটি ভেজাল মুনাফা
কত শত জীবনের কান্না হয়ে ফেরে,
হাসপাতালের করিডোরে
অসহায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমা হয়।
আমরা কি শুধু ক্রেতা?
না, আমরা একেকজন প্রহরীও।
প্রশ্ন করতে হবে,
সত্য জানতে হবে,
অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে।
খাদ্য শুধু পেট ভরানোর নাম নয়,
এটি জীবনের জ্বালানি,
একটি শিশুর স্বপ্ন,
একজন শ্রমিকের শক্তি,
একজন মায়ের প্রার্থনা।
আসুন, আমরা এমন এক সমাজ গড়ি
যেখানে ফলের রঙ হবে প্রকৃতির,
দুধের সাদা হবে বিশ্বাসের,
খাবারের স্বাদ হবে নিরাপত্তার।
কারণ সুস্থ জাতির শুরু
কোনো বড় স্লোগান থেকে নয়,
শুরু হয় প্রতিদিনের সেই থালা থেকে-
যেখানে খাবার থাকবে,
কিন্তু থাকবে না কোনো বিষ,
থাকবে না প্রতারণার ছাপ।
নিরাপদ খাদ্য হোক
প্রতিটি মানুষের অধিকার,
আর সচেতনতা হোক
আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
(বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে)