রবিবার, জুন ৭, ২০২৬

১৯ দিনেই রামিসা হত্যা মামলার রায়: মৃত্যুদণ্ড পেল স্বামী-স্ত্রী,স্বস্তি ভুক্তভোগী পরিবারের

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৬-০৭ ১৭:২১:৩০
ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দ্রুত বিচার শেষে প্রধান দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত অর্থ রামিসার পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
রায়ের পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট। তবে চূড়ান্তভাবে সন্তুষ্ট হবেন তখনই, যখন এই রায় কার্যকর হবে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান এবং এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য ৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা পল্লবীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।
অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা রামিসার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে।
পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত দ্রুত শেষ করে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। ধারাবাহিক শুনানি শেষে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হয়।
আইনজীবীরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে সমাজে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে এই রায়।

কী-ওয়ার্ডস: রামিসা হত্যা,মৃত্যুদণ্ড,দ্রুত বিচার

 


এ জাতীয় আরো খবর