নাইজেরিয়ার ওয়ো অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশটির শিক্ষক সংগঠন নাইজেরিয়া ইউনিয়ন অব টিচার্স (এনইউটি) সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, অপহৃত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদে উদ্ধারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঠদানসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।
গত ১৫ মে ওয়ো অঙ্গরাজ্যের তিনটি বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা একদল শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে তুলে নিয়ে যায়। দেশটির সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে বোকো হারাম-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে।
যদিও অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, তবে সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে জানা যায়, দুই থেকে ১৬ বছর বয়সী অন্তত ২৫ থেকে ৩৯ জন শিক্ষার্থী এবং সাতজন শিক্ষককে জিম্মি করা হয়েছে। তাদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনইউটি এক বিবৃতিতে বলেছে, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা এখনও অপহরণকারীদের কবলে থাকায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেকেই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াওটা এলাকার একটি নার্সারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কাছাকাছি আরও দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সময়ে হামলা চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান।
উত্তর নাইজেরিয়ায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ প্রায় নিয়মিত ঘটনা হলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এত বড় পরিসরের শিক্ষার্থী অপহরণ বিরল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট Bola Tinubu ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এক হাজার বন রেঞ্জার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে।
শিক্ষক সংগঠনটি অপহৃতদের দ্রুত ও নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কি-ওয়ার্ডস:শিক্ষক ধর্মঘট,শিক্ষার্থী অপহরণ,নাইজেরিয়া সংকট