সোমবার, জুন ১, ২০২৬

বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীর প্রতি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-০১ ১০:১৭:১৯

আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে শান্তিরক্ষা দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি সদস্যকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হতে যাওয়া বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় একটি ড্রোন হামলায় তারা প্রাণ হারান। তাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একইসঙ্গে গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদক প্রদান করা হবে।
বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয়দের অন্যতম। আবেই, মধ্য আফ্রিকা, সাইপ্রাস, কঙ্গো, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ এলাকায় বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১১৮টি দেশ জনবল সরবরাহ করছে।
শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অতীত ও বর্তমানের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও আশার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা। তবে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংঘাত ও সীমিত সম্পদের বাস্তবতায় শান্তিরক্ষা উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, নেতৃত্ব ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মাননাও প্রদান করা হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়েও নতুন করে গুরুত্বারোপ করবে জাতিসংঘ।

কী-ওয়ার্ডস: শান্তিরক্ষা,মরণোত্তর পদক,বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর