একসময় মানুষ স্বপ্ন বুনত
বইয়ের পাতায়,
শপথ নিত পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে-
দেশ বদলাবে,সমাজ বদলাবে,
সত্য একদিন জিতবেই।
এখন তারা বদলে গেছে।
চোখে আর আগুন নেই,
আছে কেবল হিসাবের ক্যালকুলেটর,
আর আত্মাকে বিক্রির নিঃশব্দ চুক্তিপত্র।
যে ছেলেটা একদিন
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করত,
আজ সে ক্ষমতার করিডোরে
চুপচাপ মাথা নোয়ায়।
যে মানুষটি বলেছিল-
'আমি কখনো দুর্নীতির কাছে হারবো না,'
সে আজ নিজের সন্তানের চোখ এড়িয়ে চলে।
আদর্শ এখন
ড্রয়িংরুমের দেয়ালে টাঙানো পুরোনো ছবি,
যার দিকে কেউ তাকায় না।
সবাই ব্যস্ত
নিজের নিরাপদ মিথ্যার ভেতর বাঁচতে।
শহরের বড় বড় বিলবোর্ডে
নীতির ভাষণ ঝুলে থাকে,
আর গলির ভেতর
ক্ষুধার্ত মানুষ ন্যায়ের জন্য অপেক্ষা করে।
সভ্যতার নামে
মানুষ এখন কেবল অভিনয় শেখে,
সততা শেখে না।
একদল মানুষ
ভালো থাকার জন্য নয়,
ভালো দেখানোর জন্য বাঁচে।
তাদের মুখে মানবতার কথা,
কিন্তু হাতে লোভের নখর।
এই সময় ভয়ংকর-
কারণ এখানে খুনি শুধু অস্ত্রধারী নয়,
এখানে বিবেকহীন মানুষও
নীরবে হত্যা করে ভবিষ্যৎ।
তবু আমি বিশ্বাস করি-
সব আদর্শ একদিন মরে যায় না।
কিছু মানুষ এখনো
অন্ধকারের ভেতর ছোট্ট প্রদীপ হয়ে জ্বলে,
কিছু কণ্ঠ এখনো সত্য উচ্চারণ করে
সব ভয়কে অস্বীকার করে।
হয়তো পৃথিবী পুরো বদলাবে না,
তবু একজন মানুষের সততা
আরেকজন মানুষকে বাঁচতে শেখাবে।
সেই আশাতেই
এখনো কিছু স্বপ্ন
ধ্বংসস্তূপের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে।