সাতক্ষীরা : পেশাদার সাংবাদিকদের সাথে সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ অসৌজন্য মূলক আচরণ করায় জেলা প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছেন তারা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আচরন করেন। এতে বিস্মিত হয়েছেন মুলধারার সাংবাদিক সমাজ। তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের মতো দয়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরণের আচরণ রাস্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়।
অভিযোগ উঠেছে, জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হলেও সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না। এতে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সম্মেলন কক্ষে প্রকৃত সাংবাদিকদের তুলনায় অপসাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল বেশি। তারা চেয়ার দখল করে বসে পড়েন। ফলে পেশাদার সাংবাদিকদের অনেকেই বসার জায়গা পাননি। পরে সিনিয়র সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে ব্রিফিংটি দ্বিতীয় ধাপে আয়োজনের অনুরোধ জানান।
এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্বিতীয়বার প্রোগ্রাম করার সুযোগ নেই। আগে এলে বসার জায়গা পেতেন। আগে যারা আসবে, তারা আগে বসবে। জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যে বিস্মিত হয়ে যান সাংবাদিকরা। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ৬০ জন সাংবাদিক একযোগে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।
এসময় জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মুলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের সকল খবর গুরুত্বের সাথে প্রচার করে আসছি। তিনি আরও বলেন, গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সে দিন দেখা যায়নি। সুতরাং জেলা প্রশাসকের এ মন্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়।
তবে, অসৌজন্যমুলক আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকরা নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট পরে আসায় তারা আসন পাননি।
আপনিও তো ৩০ মিনিট পরে এসেছেন সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জানতাম অনুষ্ঠান সাড়ে বারোটায়। তথ্য অফিসার আমাকে সেভাবেই জানিয়েছিল।
প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে বেরিয়ে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সময় টিভির প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি ও আর-টিভির প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-ইলাহী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও এটিএন বাংলার প্রতিনিধি এম. কামরুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিনিধি আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশন টিভির প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ডিবিসির প্রতিনিধি এম বেলাল হোসাইন, অর্থসম্পাদক ও দৈনিক দেশ সংযোগের প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদ ময়না, একাত্তর টিভির প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, এখন টিভির প্রতিনিধি আহসান রাজিব, যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, এশিয়ান টিভির প্রতিনিধি মশিউর রহমান ফিরোজ, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, দৈনিক ভোরের পাতার মহিদার রহমান, দৈনিক মানব কন্ঠের মেহেদি আলী সুজয়, দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এস এম তহিদুজ্জামান, দৈনিক ভোরের ডাকের তৌফিকুজ্জামান লিটু, দৈনিক বাংলার আবু সাঈদ, দৈনিক কালের কন্ঠ ডিজিটালের আলী মুকতাদীর হৃদয়, এনপিবি নিউজের হোসেন আলী, টাইমস্ টুডে ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিলসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।