পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইমরান খান প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল পিটিআইকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির দাবি, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ইমরান খান “মারকা-ই-হক” বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীও তার, দেশও তার।
পিটিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের বার্তাও দিয়েছেন। দলটির মিডিয়া সেক্রেটারিয়েট থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর ভূমিকাকে প্রশংসা করা হয়। তাদের দাবি, অতীতের এক সামরিক সংঘাতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী শক্ত অবস্থান নিয়ে কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই সংঘাতে প্রতিপক্ষের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল এবং সেটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নিহত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, মাতৃভূমির জন্য তাদের আত্মত্যাগ জাতি স্মরণে রাখবে।
পিটিআই আরও দাবি করেছে, কারাগারে থেকেও ইমরান খানের নেতৃত্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা নীতিতে প্রভাব ফেলছে। দলটির মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে তার কূটনৈতিক অবস্থান দেশের ভাবমূর্তি শক্তিশালী করেছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে জে-১০সি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগেও তার সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীকে ঘিরে ইমরান খানের এই কথিত মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনী ও রাজনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে পিটিআইয়ের এই প্রচার নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তার মুক্তি ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের দাবিতে পিটিআই ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
কী-শব্দ: ইমরান,পিটিআই,পাকিস্তান