পাইকগাছা (খুলনা):
খুলনার পাইকগাছায় স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারনা শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা স্ব-স্ব প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারনার পাশাপাশি নির্বাচনী তোড়-জোড় শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের খানিকটা হলেও এগিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতকভাবে একক প্রার্থীতার ক্ষেত্রে অন্যান্য দলগুলো পিছিয়ে রয়েছে।
মূলত তপশীল ঘোষণার পর বিএনপি সহ সমমনা দলগুলো নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করে থাকে। এর আগে প্রার্থীতা পেতে দলীয় সম্ভাব্যরা প্রচার-প্রচারনায় মাঠ গরম করে রাখেন। এক্ষেত্রে এক এলাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থীর পেছনে নেতা,কর্মী ও সমর্থকরাও খানিকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) নির্বাচনী এলাকায়। আসন্ন স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনেও একক প্রার্থীতা নিয়ে সেই একই পথের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। পক্ষান্তরে একক প্রার্থীতা নিয়ে বরাবরের মত বেশ খোশ মেজাজে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতের প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র সহ ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ টিতে চেয়ারম্যান পদে তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে তুমুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। ঘোষিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাও: আমিনুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা কামাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পৌর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শাহানারা খাতুন, পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতা এডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু'র নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সাথে ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে হরিঢালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান, কপিলমুনির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা বুলবুল আহমেদ, দেলুটিতে ইউনিয়ন আমীর গোলাম মোস্তফা, সোলাদানায় উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরে আলম, লস্করে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান,গদাইপুরে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল¬াহ আল মামুন, রাড়ুলিতে জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, চাঁদখালীতে ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আসগর হোসাইন ওরফে জাহাঙ্গীর ও গড়ইখালীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামায়াত নেতা প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র লতা ইউনিয়ন বাদে উপজেলা, পৌরসভা এবং ৯ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সবার নজর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দিকে ফেরাতে দল থেকে নাম ঘোষণার পর নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে প্রার্থীদের মধ্যে। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তাদের প্রার্থীরা। খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাও: আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে তারা একদিকে যেমন নিজ এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সংযোগ বাড়িয়েছেন পাশাপাশি সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনেরও করার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঠিক দিন-ক্ষণ ঘোষনা না হলেও ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে বাজেট পরবর্তী সম্ভাব্য সময় ঘোষণা হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী তাদের এ তৎপরতা শুরু করলেও সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখনও তাদের কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি। যদিও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগে থেকেই মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বরাবরাই স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান ভাল। সরকারের সফলতাকে পুঁজি করে উপজেলার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব পদে বিজয়ী হবেন। যদিও দলের একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দিতা থাকলে জটিল সমীকরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।