স্বাধীনতার পতাকা উড়ে-
তবু কোথাও যেন অদৃশ্য শেকল ঝুলে থাকে,
চোখে দেখা যায় না,
কিন্তু শ্বাস নিতে গেলেই লাগে-
কেউ যেন বুকের ভেতর হিসেব কষছে।
আমরা ভোট দিই, কথা বলি, হাঁটি-
তবু সিদ্ধান্তগুলো লেখা হয় অন্য কারও টেবিলে,
অন্য ভাষায়,
অন্য স্বার্থের কালি দিয়ে।
পরাধীনতা এখন আর লোহার বেড়ি নয়,
এটা আসে নরম বিজ্ঞাপনের মতো,
চকচকে প্রতিশ্রুতির মোড়কে,
যেখানে স্বাধীনতা মানে-
নির্বাচিত কিছু অপশন থেকে বেছে নেওয়া।
আমার শহর ঘুমায় উন্নয়নের আলোয়,
কিন্তু গলির ভেতর অন্ধকারে
একটা শিশু শেখে-
কীভাবে স্বপ্ন না দেখতে হয়।
আমার দেশ দাঁড়িয়ে থাকে ঋণের ওপর,
আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকি লাইনে-
চাল, তেল, আর ভবিষ্যতের জন্য।
যে ভবিষ্যৎ কখনো আসে না,
শুধু ঘোষণা হয়ে থাকে।
পরাধীনতা মানে শুধু শাসকের দাপট নয়,
এটা মনের ভেতর ঢুকে যায়-
তুমি প্রশ্ন করতে ভয় পাও,
কারণ প্রশ্ন মানেই বিপদ,
আর নীরবতা মানেই নিরাপত্তা।
আমরা নিজেরাই নিজেদের বন্দী করে রাখি,
সমালোচনাকে বলি বিশৃঙ্খলা,
সত্যকে বলি ঝুঁকি,
আর মিথ্যাকে বানাই নিয়ম।
কখনো ভাবি-
আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?
নাকি শুধু শিখে গেছি
কীভাবে পরাধীনতাকে
স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে হয়?
যে দিন মানুষ ভয়কে অস্বীকার করবে,
সেই দিনই শুরু হবে মুক্তি-
কারণ শেকল ভাঙে আগে মনে,
তারপর রাস্তায়।
ততদিন-
আমরা স্বাধীন দেশের
পরাধীন মানুষ হয়ে বাঁচি।