শহরের দেয়ালে এখনো পুরোনো স্লোগান,
রঙ চটে গেছে-কিন্তু অভ্যাস যায়নি;
ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে সত্য,
আর আমরা শিখে গেছি
কীভাবে নীরবতাকে ভদ্রতা বলা যায়।
গ্রামের ধুলোমাখা পথেও খবর পৌঁছে যায়-
কেউ স্কুলে যায়নি আজ,
কারণ বইয়ের চেয়ে বাজারদর জরুরি;
কেউ হাসপাতালে ঢুকতে পারেনি,
কারণ দরজার আগে দাঁড়িয়ে ছিল
একটা অদৃশ্য পরিচয়পত্র-
যার নাম ‘যোগাযোগ’।
আমরা কি শুধু ভাঙা সেতুর ছবি তুলবো,
না কি সেতু বানানোর মানুষ হবো?
সংস্কার মানে শুধু আইন নয়,
সংস্কার মানে-
মনের ভেতর জমে থাকা সুবিধাবাদের ধুলো ঝাড়া।
একটা শিশু যখন প্রশ্ন করে-
'স্যার,সত্যি বললে কি নম্বর কমে?'
তখন বোঝা যায়,
পাঠ্যবই বদলালেই শিক্ষা বদলায় না;
শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজ-
সবাইকে নতুন করে শিখতে হয়
সত্যের ব্যাকরণ।
রাতের শহরে লাল-সবুজ সিগন্যাল জ্বলে,
কিন্তু আমরা তাড়াহুড়োয় চোখ বন্ধ করি;
নিয়ম ভাঙার এই ক্ষুদ্র বিজয়গুলো
একদিন বড় পরাজয় হয়ে ফিরে আসে-
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন হয়ে,
অথবা কারো অসমাপ্ত জীবনের গল্প হয়ে।
সংস্কার চাই-
কাগজে নয়, কাজে;
ঘোষণায় নয়, অভ্যাসে;
ক্ষমতার চেয়ারে নয়,
মানুষের বিবেকে।
যে হাত ঘুষ নেয়,
সে হাতই একদিন সন্তানের মাথায় হাত রাখে-
তখন কি সে বোঝে,
কোনো নৈতিকতা উত্তরাধিকার হয় না
যদি তা চর্চা না করা হয়?
আমরা যদি চাই,
প্রতিটি মোড় হতে পারে সততার চৌরাস্তা,
প্রতিটি স্কুল হতে পারে প্রশ্নের মুক্তমঞ্চ,
প্রতিটি অফিস হতে পারে
দায়িত্বের আয়না।
দেশ বদলানো কঠিন নয়-
কঠিন হলো নিজের ছোট সুবিধাটা ছেড়ে দেওয়া;
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয়
সবচেয়ে বড় বিপ্লব-
নিঃশব্দ, কিন্তু স্থায়ী।
চলো, আমরা নতুন করে লিখি-
একটা দেশ, যেখানে
আইন মানা সাহসের নয়,স্বাভাবিকতার পরিচয়;
একটা সমাজ,যেখানে
মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।